সিংড়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, বৃদ্ধা নিহত

নিহত শিক্ষক রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে ও বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

নাটোরের সিংড়ায় কলেজশিক্ষক ও রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়ে অভিযুক্তের বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টায় উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত শিক্ষক রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে ও বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ও ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর কর্মী বলে জানা গেছে।

তবে ঘটনার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কলম কুমারপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল ওহাবের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। আর সেই আগুনে ওহাবের মা ছাবিহা বেওয়ার (৭৫) মৃত্যু হয়। আগুনে টিনের তৈরি সাতটি ছাপরা ঘরও পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নুর মোহাম্মদ আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নিহত শিক্ষকের কর্মস্থল বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার।

অপরদিকে বেলা ১২টার দিকে নিহত শিক্ষকের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি। প্রতিবাদ সভায় শহর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের ধানের শীষ মনোনিত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

প্রতিবাদ সভা থেকে নিহত জিয়া পরিষদ নেতা কলেজ শিক্ষকের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে, বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষকমন্ডলী। প্রতিবাদ সভায় শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের নাটোর জেলা সভাপতি সাবেক উপাধ্যক্ষ আহমদুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, নাটোর সদর জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

এবিষয়ে নিহতের ভাতিজা কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপন মোবাইল ফোনে জানান, তার চাচা বুধবার রাতে বাজার থেকে বাসায় ফিরে এশার নামাজ ও খাবার শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হন। এসময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রায় দেড় জজন হত্যা মামলার আসামি আব্দুল করিম ও কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সি, আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল ওহাবসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী তার চাচাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, এলাকায় তার চাচার সাথে কারো কোনো প্রকার বিরোধ ছিল না। ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর পক্ষে শিক্ষক সমাজকে একত্রিত করার অপরাধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরো দাবি করেন, এই নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকে ধামাচাপা দিতে নিজেরাই বাড়িতে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দ্রুত চাচার হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবি করেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে।

উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত শিক্ষক জিয়া পরিষদ নেতা ও ধানের শীষের একনিষ্ঠ কর্মী। তার মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও বিএনপি পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেন।

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত শিক্ষককে গলা ও কানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুটি লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার ও হত্যার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।