জাতীয় নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই বগুড়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ছাত্রদল নেতা ও এক সুইপারসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনায় মূল আসামি গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারের শুরুতেই একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছাত্রদল নেতা খুন
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া সদরের নওদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ও বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য ফাহিম হোসেন (১৯) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সকালে মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, একই গ্রামের তনয় নামের এক যুবক ফাহিমের ছোট বোনকে উত্যক্ত করতেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিন মাস আগে তনয় ফাহিমের ভগ্নিপতিকে ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তনয়কে গ্রেপ্তার করে। দুই সপ্তাহ আগে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
শনিবার সকালে ফাহিম মাটিডালী এলাকায় গেলে তনয় তার পথরোধ করে বুকে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, বোনকে উত্যক্ত করার জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সুইপার খুন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে ৫০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে আহত হন বগুড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) সুনীল বাঁশফোড় (২৩)। তিনি সেউজগাড়ী সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোড়ের ছেলে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।
খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার মরদেহ নিয়ে শহরের সাতমাথায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তারা পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেন এবং ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন।
হরিজন সম্প্রদায়ের বগুড়া জেলা সভাপতি দীপক রাম বলেন, প্রকাশ্যে ৫০০ টাকার জন্য সুনীলকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ এখনো মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ট্রাকচালককে গলা কেটে হত্যা
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গাবতলী উপজেলার সেন্দাবাড়ী এলাকায় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামের এক ট্রাকচালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি ওই এলাকার জামাল উদ্দিন ওরফে জামুর ছেলে।
পুলিশের ধারণা, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো গভীর রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সেদিন তিনি আর ফেরেননি। ভোরে বাড়ির পাশের একটি ঘাসের জমিতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের মেয়ে সাদিয়া আক্তার বলেন, “বাবা প্রতিদিন দেরি করে বাড়ি ফেরেন। সেদিন না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে বাড়ির পাশেই বাবার লাশ পাই।”
গাবতলী মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



