দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার অভিযোগে দুই দিনে দুই ডিলারের কাছ থেকে সর্বমোট ১৩৭০ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহিতোষ চন্দ্র চন্দ নামে এক বিএডিসি সার ডিলারের মহাদেব ট্রেডার্স নামের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ এবং ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মহিতোষ চন্দ্র চন্দ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নিবন্ধিত সার ডিলার। তার গুদামে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সার মজুত করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে গুদামে থাকা সার গণনা করে মোট ৪৫০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি), বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার রয়েছে।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’ নামের ওই গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মোজাহারুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।
অভিযানে গুদামে ২৬০ বস্তা এমওপি ও ৬৬০ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার অভিযোগেই এ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা সার প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে এবং কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



