চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শতাধিক স্থানে মাদকের আখড়া গড়ে ওঠায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পাশাপাশি ‘এমইও’ নামে থাইল্যান্ডের একটি জুয়ার প্রচলনও বাড়ছে, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের ১০-১২টিরও বেশি স্থানে মাদকের আসর বসছে। ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বেকার যুবকেরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয়। এদের মধ্যে ১০-১২ জন পাইকারি ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা জামিনে বেরিয়ে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ছেংগারচর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার, সড়কসংলগ্ন এলাকা, গলিপথ এবং নির্জন স্থানে এসব মাদকের স্পট বিস্তৃত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ‘এমইও’ নামে একটি জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন অটোরিকশা, রিকশা ও টেম্পু চালকসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এতে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৫০০ পরিবার এই জুয়ার কারণে চরম সঙ্কটে পড়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক পরিবার জানায়, উপার্জনের অর্থ জুয়ায় হারিয়ে অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন, ফলে সংসারে অভাব-অনটন ও কলহ বাড়ছে। মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বশির আহমেদ খান বলেন, ‘মাদক ও জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুল হাসান জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মতলব উত্তর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একদিন পরপর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও সরবরাহ বন্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



