বিমানমন্ত্রী

প্রবাসীরা যেন বিমানবন্দরে পা রেখেই বুঝতে পারে মাতৃভূমিতে এসেছি

‘আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আগে পাইলট ও ধনীদের সন্তানরাই বিমানের পাইলট হতো, কিন্তু এখন আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি, মেধাবী যেকেউ পাইলট হতে পারবে।’

মো: শাহানুর ইসলাম, মানিকগঞ্জ

Location :

Manikganj
বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে ফুলের তোরা দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন হরিদাস ও রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন
বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে ফুলের তোরা দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন হরিদাস ও রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন |নয়া দিগন্ত

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করে যাবতীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করে যাত্রীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। আমাদের প্রিয় রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রিয় প্রবাসী ভাই-বোনেরা এয়ারপোর্টে পা রেখেই যেন বুঝতে পারে তারা প্রিয় মাতৃভূমিতে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের জঞ্জাল তিন মাসেই সম্পূর্ণ শেষ করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে আমরা কোনো অবস্থাতেই অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করব না। আমরা অবশ্যই বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ পৌরসভার বাজারের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় হরিজন পল্লীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হরিজন সম্প্রদায়ের জনগণের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমাকে যে ভালবাসায় আবন্ধ করে রেখেছেন আমি আজ তার প্রতিদান দিতে এসেছি। আপনাদের আবাসনের জন্য কলোনি হবে এবং সেখানে ৪৮টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। আপনাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, পানির সমস্যা সমাধানসহ সকল প্রয়োজন মেটানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘মন্দির-শ্মশানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমরা ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ করি না। আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আগে পাইলট ও ধনীদের সন্তানরাই বিমানের পাইলট হতো, কিন্তু এখন আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি, মেধাবী যেকেউ পাইলট হতে পারবে।’

জিয়া পরিষদ ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহযোগিতায় ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা: বদরুল আলম চৌধুরী এবং পরিচালনায় ছিলেন ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: জিয়াউর রহমান।

এর আগে, মন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছালে হরিদাস ও রবিদাস সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে মন্ত্রীকে ফুলের তোরা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় হরিজন সম্প্রদায়ের সভাপতি রিপন জমাদার, রবিদাস সম্প্রদায়ের সভাপতি দশরত রবিদাস তাদের সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

হরিদাস ও রবিদাস সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে আমাদের নাম ব্যবহার করে আমাদের ভোট ব্যাংক বলে প্রচার করলেও আমাদের জন্য কিছুই করেনি। আমরা উন্নয়নের সাথে আছি। আমরা আমাদের অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন, সিভিল সার্জনসহ বিশেষঞ্জ চিকিৎসকবৃন্দ ও এলাকাবাসী।