ফেনীর সোনাগাজীতে দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উল্লাহর ভাই মৎস্য খামারি সিরাজুল হকের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের হাজী সিরাজের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সোনাগাজী পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার, শাস্তি ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাজী সিরাজুল হকের ছেলে ঢাকা জজকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো: বিপ্লব। এসময় তার মা আনোয়ারা বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও আইরিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
পু্লিশ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ফেনী-৩ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কারাবন্দী রহিম উল্লাহর ছোট ভাই সিরাজুল হক মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার একজন মৎস্য খামারি ব্যবসায়ী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও সন্তানেরা খামারের মালামাল আনতে গেলে ওই এলাকার সন্ত্রাসী সোহেল, জলহস্তি শাহীন, আসিফ, মোশাররফ, কেফায়েত ও আরিফের নেতৃত্ব ১৫-২০জন সন্ত্রাসী সিরাজের স্ত্রী ও ছেলে বিপ্লবকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। এসময় বিপ্লবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সন্ত্রাসীরা লুট করে নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটি ছাড়ার বিনিময়ে সন্ত্রাসীরা সিরাজের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় সিরাজের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগের হুমকি দিতে থাকেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা সহ ৩০-৩৫জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলবদ্ধ হয়ে সিরাজের আড়াই মাস বয়সী শিশু কন্যাকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ১৩-১৪ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮ লাখ টাকা লুট করে কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে তার বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ সংযোগ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাইনে ফোন দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনাগাজী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মফিজুর রহমান অগ্নিসংযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো: কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



