সৌন্দর্যে ও জীববৈচিত্রের অপূর্ব সমন্বয় কাঠ মালতী ফুল

সাদা শোভাবর্ধনকারী ফুলটি সারা বছরই ফুটে থাকে, তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এর সৌন্দর্য বেশী চোখে পড়ে। এই ফুল যেন বর্ষার সবুজ প্রকৃতিতে এক টুকরো শুভ্রার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Gazipur
কাঠ মালতী ফুল
কাঠ মালতী ফুল |নয়া দিগন্ত

বর্ষার স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাঠ মালতী ফুল। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাক, বাড়ির আঙিনা ও বাগানে ফুটে থাকা দুধ-সাদা কাঠ মালতী ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়েছে। এটি আমাদের দেশে কাঠমল্লিকা বা টগর গোত্রের ফুল হিসেবে পরিচিত।

সাদা শোভাবর্ধনকারী ফুলটি সারা বছরই ফুটে থাকে, তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এর সৌন্দর্য বেশী চোখে পড়ে। এই ফুল যেন বর্ষার সবুজ প্রকৃতিতে এক টুকরো শুভ্রার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চোয়ারিখোলা এলাকার সবিতা সেনের বাড়ির আঙিনায় কাঠ মালতী ফুলে নজর কেড়েছে। ঝোপজাতীয় গাছে ফুটে থাকা সাদা ফুল চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল সৌন্দর্য। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে পথচারীরা। অনেকে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেইসবুকে পোস্ট করছেন। এ যেন জীববৈচিত্রের অপূর্ব সমন্বয়। আকর্ষণীয় কাঠ মালতী ফুলের সৌন্দর্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সবুজ প্রকৃতি।

সোমখালী এলাকার ফুলপ্রেমী হীরা রোজারিও বলেন, ‘কাঠ মালতী একটি সহজে পরিচর্যাযোগ্য শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ। অল্প যত্নেই এটি বেড়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ফোটে থাকে। এই ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুলের মধুর আকর্ষণে মৌমাছি ও প্রজাপতির আনাগোনাও বেড়ে যায়। যা পরিবেশের জীববৈচিত্র রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।’

স্কুল শিক্ষক কাজী কেরামত জানান, ‘কাঠ মালতী শুধু শোভাবর্ধনকারী ফুলই নয়, এটি সহজে চাষযোগ্য এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফোটে থাকে। তাই বাড়ির আঙিনা, পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যবর্ধনে কাঠ মালতী ফুলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ফুলগাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের আবাস তৈরি করে ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষায় কাঠ মালতীসহ দেশীয় শোভাবর্ধনকারী ফুলগাছের চারা রোপণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’