আ’লীগের নির্যাতন-নিপীড়নের পদ্ধতিগুলো বিএনপি চর্চা শুরু করেছে : সারজিস আলম

‘দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগের নিপীড়ন-নির্যাতনের একই সিস্টেমগুলো, একই কালচারগুলো আরো প্রকটভাবে চর্চা করা শুরু করেছে।’

রফিকুল ইসলাম রকি, খাগড়াছড়ি

Location :

Khagrachhari
খাগড়াছড়িতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন সারজিস আলম
খাগড়াছড়িতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন সারজিস আলম |নয়া দিগন্ত

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যে পদ্ধতিতে নির্যাতন-নিপীড়ন করত সেই একই পদ্ধতিগুলো, একই কালচারগুলো এবার বিএনপি চর্চা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ‘মাত্র ছয় মাসেই দলটির প্রতি মানুষ বিরক্ত হওয়া শুরু করেছে। ফলে জনপ্রিয়তা রেকর্ডসংখ্যকভাবে হ্রাস পাওয়া শুরু করেছে।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়িতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি বিগত ১৬-১৭ বছরে জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগের নিপীড়ন-নির্যাতনের একই সিস্টেমগুলো, একই কালচারগুলো আরো প্রকটভাবে চর্চা করা শুরু করেছে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আসতে না আসতেই জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এই জ্বালানি তেলের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, বণ্টন, বিপণন, কৃষক, পরিবহন প্রত্যেকটা সেক্টর জড়িত। ফলশ্রুতিতে মানুষের কিন্তু জীবন ধীরে ধীরে দুর্বিষহ হয়ে উঠতেছে। মানুষ টাকা দিয়েও সার পাচ্ছে না। মানুষ মূল্য পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, গ্যাস পাচ্ছে না। শত শত কারখানা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি বলেছিল এক কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে লাখের কাছাকাছি কর্মসংস্থানও করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। তারা একটি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। যেটা হচ্ছে চাঁদাবাজি। এই ছয় মাসেই কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে যাদের পেশা হচ্ছে চাঁদাবাজি করা। চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ শুরু করেছে। এই মানুষগুলো হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষকে জুলুম করে, শোষণ করে চাঁদাবাজির মধ্য দিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষ এখন আর কোথাও শান্তিতে নেই।’

মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে। কোনো যোগ্যতা দেখা হয় না। এমন মানুষগুলোকে দেয়া হচ্ছে যেই মানুষগুলো কোনোদিন ওই বিষয়গুলো নিয়ে ধারে-কাছেও কাজ করেনি। পাশাপাশি যারা সৎ, যোগ্য, দক্ষ, যারা তাদের চুরি ধরে ফেলে, চাঁদাবাজি বন্ধ করে, সিন্ডিকেট বন্ধ বন্ধ করে, ওই অফিসারদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। গালিগালাজ করা হচ্ছে। হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। নারী ইউএনও যারা আছেন তাদের হেনস্থা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।’

সিলেটের সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র তাদের চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট বন্ধ করতে ডিসি গিয়েছিলেন মাজারে। এক দিনের মধ্যে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেয়া হয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা, কুক্ষিগত করার মধ্য দিয়ে আগের যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারা সেই একই ধারার প্রত্যাবর্তন বিএনপির মাধ্যমে দেখতে আমরা পাচ্ছি।’

বিএনপিকে ‘হেদায়াতের পথে’ আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভালোটাকে ভালো বলব। আবার যেটা সমালোচনা করার সমালোচনা করব। আপনারা যদি মনে করেন যে সমালোচনা করলে চোখ তুলে ফেলবেন, রক্তাক্ত করবেন— আপনারা করেন, আমরা দেখি আপনারা কত করতে পারেন।’

‘বাংলাদেশের মানুষ বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেনি। যে মানুষ জুলাই আন্দোলনে নেমেছিল সেই মানুষ এই জুলুম খুব বেশিদিন সহ্য করবে না,’ মন্তব্য করেন সারজিস আলম।

এসময় তিনি বিএনপিকে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর ব্যাপারে সারজিস বলেন, ‘আরেকটা কোটা ব্যবস্থা দেখলাম এই পার্বত্য জেলাগুলোর জেলা পরিষদে। এখানকার কোটাটা হচ্ছে বিএনপি কোটা। আপনি যদি বিএনপির নেতা হন, পদ-পদবী থাকে তাহলে আপনি জেলা পরিষদে থাকতে পারবেন। তাহলে দিনশেষে এখানকার মানুষের যে অধিকার, উন্নয়ন বা প্রাপ্য সেটা থেকে বঞ্চিত হবে।’

নবগঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুনছি যে বিভিন্ন ধরনের টাকার লেনদেন হয়েছে। তাহলে সামগ্রিকভাবে তাদের মাথায় লক্ষ্য থাকবে কিভাবে টাকা উঠানো যায়। আমাদের এই পার্বত্য জেলার মানুষের যেই দুঃখ ছিল তা হয়তো চলমানই থাকবে।’

এর আগে জেলা সদরের অরুনিমা কমিউনিটি সেন্টারে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এতে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।