ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক ও অন্যান্য শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেকারদের বেকারত্বের অভিশাপ দূর হবে। কৃষি ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা তাদের নিজ যোগ্যতায় সাবলম্বী হবে। তারা নিজেদের উপার্জনে সম্মানের সাথে জীবন যাপন করবেন।’
স্বাস্থ্যখাতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ঠাকুরগাঁওয়ের ১৭ লাখ মানুষসহ পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের অনেক মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এখানে কোনো মেডিক্যাল কলেজ না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর, রংপুর বা ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। আমরা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের বন্ধ বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর মাধ্যমে এই এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের ব্যবস্থা করা হবে। যার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যবসায়ীক বিনিয়োগ বাড়বে। ফলে এলাকার উন্নয়ন তরান্বিত হবে। সেই সাথে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলাকার পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য এমন সমাজ ব্যবস্থা তৈরী করে যেতে চাই, যেখানে কোনো মা-বোন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাবে না। তারা নিরাপদে নির্ভয়ে তারা বাড়িতে ফিরে আসবে। কেউ তাদের রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করার সাহস করবে না। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে তাদের বিভিন্ন প্রকার উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে তুলে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হবে। পরিবারে যেন তাদের বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করলে আমি আপনাদের শাসক না হয়ে আপনাদের সেবক হয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি সব সময় আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের সুখ দুঃখের অংশিদার হতে চাই। আমি সরকারি বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা নিতে চাই না। যদি কখনো আমার কথার ব্যত্যয় ঘটে, আপনারা সেদিন আমাকে আপনাদের আদালতে দাঁড় করিয়ে জবাব নিবেন।’
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হলো ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। বিগত দেড় বছরে আপনারা দেখেছেন একটি দল কিভাবে মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করে তাদের সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। এখনো মানুষ তাদের ভয়ে কথা বলতে পারে না। তাই আমরা সেসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সমাজ থেকে তাদের বিতাড়িত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব।’
এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসিরা উপস্থিত ছিলেন।



