দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়ার (জমিরিয়া কাশেমুল উলুম মাদরাসা) মহাপরিচালক, বরেণ্য আলেমে দ্বীন ও শিক্ষাবিদ মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা শেষে মাকাবায়ে আজিজিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে সোমবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
তার স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে, বহু আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহীসহ হাজার হাজার ছাত্র-শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন।
মুফতি আবু তাহের নদভী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ দ্বীনি ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইলমে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তার তাফসির, হাদীস ও ফিকাহভিত্তিক আলোচনা এবং ছাত্রদের প্রতি স্নেহ-মমতা তাকে একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। অসংখ্য ছাত্র তার কাছ থেকে ইলম অর্জন করে দেশ-বিদেশে দ্বীনের খেদমত করে যাচ্ছেন।
মাওলানা মুফতি আবু তাহের ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর নিচিন্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নাজির আহমদ। শৈশব থেকে তিনি পারিবারিক পরিবেশে দ্বীনি শিক্ষা শুরু করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ফটিছড়ি নানুপুর, জামিয়া ইউনুসিয়া ও পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়া অধ্যয়ন করেন। ১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদীস ও ১৯৮১ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত ও পাকিস্তান সফর করেন। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে পুনরায় দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন এবং নদওয়াতুল উলামায় আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে মাওলানা আবু তাহের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে হাদীস ও আরবি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন এবং দারুল ইকামার নাজিম হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে জামিয়ার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিবের দায়িত্বও পালন করে গেছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামায়াত আমিরের শোক
মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
সোমবার এক শোকবাণীতে তিনি বলেন, দেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভীর ইন্তেকালে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তিনি আরো বলেন, মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভী ছিলেন আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার প্রিয় রাহবার। তার ইন্তেকালে দেশের ইসলামপ্রিয় জনতার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি সারা জীবন ইসলামের খেদমত করে গেছেন। দেশে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারে তার অনেক ভূমিকা রয়েছে। তিনি বহু আলেমের উস্তাদ। ইলমে দ্বীনের খেদমতের জন্য এ দেশের মানুষ তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তার ইন্তেকালে জাতি একজন খ্যাতিমান আলেমে দ্বীনকে হারাল।
‘আমি তার শোকাহত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও ছাত্রদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি,’ বলেন জামায়াত আমির।



