রাবিপ্রবিতে প্রথম জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স সমাপ্ত

‘একটি স্থানকে পর্যটনের উপযোগী করতে হলে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঠিক নীতিগত অবস্থান গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তব প্রয়োগই টেকসই পর্যটনের ভিত্তি।’

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

Location :

Rangamati
রাবিপ্রবিতে প্রথম জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্সের শেষদিনে অতিথিরা
রাবিপ্রবিতে প্রথম জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্সের শেষদিনে অতিথিরা |নয়া দিগন্ত

টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, গবেষণার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স-২০২৬ শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কনফারেন্সে দেশের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের টেকনিক্যাল সেশন শুরু হয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এই কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং রাঙ্গামাটি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: ইকবাল হোছাইন পিপিএম।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: আতিয়ার রহমান বলেন, ‘একটি স্থানকে পর্যটনের উপযোগী করতে হলে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঠিক নীতিগত অবস্থান গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তব প্রয়োগই টেকসই পর্যটনের ভিত্তি।’

নারীদের ধৈর্য ও পেশাগত দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ফ্রন্ট ডেস্কসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের অবদান বাড়ছে এবং তাদের কাজের চাহিদাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। থাইল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, হসপিটালিটি সেক্টরে পরিবর্তন আনতে হবে এবং নিজস্ব ঐতিহ্যভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

ভিসি আরো বলেন, ‘শুধু ক্লিন ক্যাম্পাস নয়, পরিচ্ছন্নতাকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে এবং অ্যাকাডেমিশিয়ান ও প্র্যাক্টিশনারদের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। এই কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা একটি বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, টেকসই পর্যটনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করতে রাষ্ট্রসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিউনিটিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রাঙ্গামাটির স্থানীয় বিন্নি চালের ভাপা পিঠাকে ঢাকায় ব্র্যান্ডিং করার উদাহরণ তুলে ধরে স্থানীয় পর্যটন বিকাশের কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়, লেক ও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে এ অঞ্চলে টেকসই ও ইকো ট্যুরিজমের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি গবেষণা ও উদ্ভাবনী আইডিয়ার মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পর্যটন খাত বিকাশে উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পর্যটন শিল্পে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নোবিপ্রবি ভিসি ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সুন্দরবন, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি পরিবেশ ও সংস্কৃতির ক্ষতি না করে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে টেকসই বিনিয়োগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।