বিভাগের কম্পিউটারে ভুয়া রোলনম্বর

ইবিতে ভর্তি ছাড়াই ক্লাস ও পরীক্ষায় অংগ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সোমবার (২৪ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইবির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন প্রতিবেদন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Location :

Kushtia
ইবির ইংরেজি বিভাগের কম্পিউটারে ভুয়া রোল নম্বর এন্ট্রি করে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন এক ছাত্রী
ইবির ইংরেজি বিভাগের কম্পিউটারে ভুয়া রোল নম্বর এন্ট্রি করে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন এক ছাত্রী |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে এক ছাত্রীর প্রতারণামূলকভাবে ভর্তির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইবির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন প্রতিবেদন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন জানান, শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

এর আগে, গত ২৭ জুলাই ইংরেজি বিভাগে ভুয়া শিক্ষার্থী শামিমা আক্তারের ভর্তিসংক্রান্ত ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক, উপ-রেজিস্ট্রার মো: বদিউজ্জামানকে সদস্য সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে সদস্য করা হয়।

কমিটিকে শামিমা আক্তারের ভর্তিসংক্রান্ত সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় নেয়া হয়। পরে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে শনিবার প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শামিমা আক্তার ২৪১০১০৪ রোল নম্বর ব্যবহার করে নিয়মিত ক্লাস ও প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে। পরে অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকা, বিভাগীয় অফিস ও একাডেমিক শাখায় তার ভর্তিসংক্রান্ত কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকায় না থাকা ওই শিক্ষার্থীর নাম ও রোল নম্বর বিভাগীয় অফিসের কম্পিউটারে সংযোজন করে তাকে ভর্তি দেখানো হয়। এরপর তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাস, ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশ নেন।

এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই ইংরেজি বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভায় শামিমা আক্তারের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। একই সাথে সংশ্লিষ্ট স্টাফদের দায়িত্ব পালনে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে ২৭ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।