রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের শেষ নির্বাচনী প্রচার মিছিলে হামলা, মাইক ছিনিয়ে নেয়া ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন শাপলা কলি প্রতীকের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আখতার হোসেনের শেষ প্রচার মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা একটি অটোরিকশায় স্লোগান দেয়ার সময় স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রিজভীর নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালায়। এ সময় মাইক কেড়ে নেয়া হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এনসিপির এক সমর্থকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সেখানে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ঘটনার বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমাদের প্রচার মিছিলের শেষ অটোরিকশায় ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা’ স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা রিজভীর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। মাইক ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং ভিডিও ধারণ করায় আমাদের এক সমর্থকের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। আমরা মাইক ফেরত দেয়ার জন্য সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা ফেরত দেয়নি।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
আখতার হোসেন আরো অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী কোরআন শরীফে হাত রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে, যা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।
তিনি আরো বলেন, “শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখে ধানের শীষের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। তাই তারা পেশিশক্তি ও কালো টাকা ব্যবহার করছে। হারাগাছ এলাকাকে তারা জমিদারি সম্পত্তি মনে করে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”
আখতার হোসেন দাবি করেন, শুধু কেন্দ্রের বাইরে নয়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি প্রশাসনের কাছে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং ভোট কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে ভোটাররাই তা প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই এসি (ল্যান্ড) সহ আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করি। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ বা মামলা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”



