লৌহজংয়ে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

লৌহজং থানাধীন গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে সোহেল মুন্সীকে নিজ বাড়ির উঠানে কে বা কারা কুপিয়ে হত্যা করে এবং উঠানে থাকা সোহেল মুন্সীর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Munshiganj
পুলিশের ব্রিফিং
পুলিশের ব্রিফিং |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা ও তার মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত আসামি মো: দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথম স্বামী ও সন্তান রেখে দ্বিতীয় বিবাহের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনায় জড়িত একমাত্র আসামি গ্রেফতার সংক্রান্তে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম পিপিএম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানায়, ঐদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে লৌহজং থানাধীন গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে সোহেল মুন্সীকে নিজ বাড়ির উঠানে কে বা কারা কুপিয়ে হত্যা করে এবং উঠানে থাকা সোহেল মুন্সীর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সংক্রান্তে সোহেল মুন্সীর মা সেফালী বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

নৃশংস এ ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরান হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নিবিড় তত্ত্বাবধানে লৌহজং থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস টিম ঘটনার তদন্তে নামে। তদন্তের শুরুতেই ঘটনাস্থলের পাশে সোহেল মুন্সীর বসতঘর থেকে তিন বোতল মদ, মদ তৈরীর বিভিন্ন উপাদান এবং বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের একাধিক টিমের তদন্তে জানা যায়, সোহেল মুন্সী ভাঙ্গারী মালামাল কেনা-বেচা করতেন এবং এর পাশাপাশি অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করতেন। সোহেল মুন্সীর স্ত্রী নুপুরসহ পরিবারের সবাইকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীবাড়ি থানাধীন যশলং ইউনিয়নের সেরজাবাদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পদ্মা এবং লৌহজং থানার একটি সমন্বিত টিম কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীন ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

পুলিশের তদন্তে আরো জানা যায়, আসামি সোহেল মুন্সীর স্ত্রী নুপুরের পূর্বের স্বামী। নুপুরের সাথে পূর্বে দ্বীন ইসলামের বিয়ে হয়েছিলো এবং আব্দুর রহমান (৩) নামে তাদের একজন ছেলে সন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে নুপুরের সাথে সোহেল মুন্সীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়। নুপুর স্বামী দ্বীন ইসলাম ও ছেলে আব্দুর রহমানকে রেখে প্রায় দেড় বছর আগে সোহেল মুন্সীর সাথে চলে আসে এবং তারা বিয়ে করে। নুপুরের দ্বিতীয় এই সংসারে দুই মাস বয়সী সাফওয়ান নামের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের জের ধরে প্রাক্তন স্বামী দ্বীন ইসলাম ক্ষুব্ধ হন এবং সোহেল মুন্সীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১টার পর উক্ত বাড়িতে প্রবেশ করে উঠানে থাকা সোহেলের বাইকে আগুন দেয়। আগুন বেড়ে উঠলে সোহেল মুন্সী টের পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাইকের আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এসময় আচমকা দ্বীন ইসলাম সোহেল মুন্সীর গলায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করলে সোহেল তার চাপাতি ধরে ফেলেন। পরে দ্বীন ইসলাম তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে প্রথমে গলায় এবং পরে হাতে ও পায়ে কোপ দেন। এসময় সোহেল মুন্সীর মা এবং স্ত্রী অপর ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে দ্বীন ইসলাম পালিয়ে যান। যাবার পথে রাস্তার পাশের ক্ষেতে চাপাতি ফেলে দেন।

এদিকে পুলিশের তদন্ত টিম ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। যা দ্বীন ইসলাম পালিয়ে যাবার সময় ঘটনাস্থলের প্রায় এক কিলোমিটার দূরের। অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত ভিডিও দ্বীন ইসলামের।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাননো হয়।