চট্টগ্রামের আনোয়ারায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সৃষ্ট বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার শত শত হেক্টরের মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয় তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে চাষকৃত মাছ। এতে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষীরা।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামোর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য খাত। আকস্মিক বন্যার পানিতে মাছের ঘের ও পুকুর উপচে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় অনেক চাষী সারা বছরের বিনিয়োগ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এক হাজার ১০০টি পুকুর, দিঘি ও খামার এবং ১৫টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মোট আয়তন প্রায় ৬০০ হেক্টর এবং মাছের ঘেরের আয়তন ৫০ হেক্টর। অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ হেক্টর জলাশয় বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার বিলপুর গ্রামের মৎস্যচাষী নুরুল হক বলেন, ‘টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে আমার চারটি মাছের পুকুর তলিয়ে গেছে। শুরুতে জাল দিয়ে মাছ রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পানির উচ্চতা এত দ্রুত বেড়েছে যে কোনোভাবেই মাছ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমার চারটি পুকুরের প্রায় নয় থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। বৃষ্টি থামার পর মাছ আহরণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্যায় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: রাশিদুল হক বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে উপজেলার মৎস্যচাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় ৬৫০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক হিসাবে ১১টি ইউনিয়নে মৎস্য খাতে প্রায় সাত কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বন্যাদুর্গত মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সহায়তায় উপজেলা মৎস্য অফিস সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলার মৎস্যজীবীরা নিরাপদে ঘাট ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মৎস্যজীবী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।’
এদিকে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানির মাছের বাজার আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবির দিঘির মোড়ের মৎস্য আড়তেও বেচাকেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ মাছের সরবরাহ ও বাজারে দামের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।



