মিয়া গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীকে ৫০টির বেশি আসনে হারিয়ে দেয়া হয়েছে

‘আমরা মনে করি ভোটাররা সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারলেও অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়া, সহিংসতার মতো বড় ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনের পরে ভোট গণনা, রেজাল্ট তৈরি করা এবং রেজাল্ট ঘোষণার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।’

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে মিয়া গোলাম পরওয়ার
ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমরা মনে করি ভোটাররা সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারলেও অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়া, সহিংসতার মতো বড় ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনের পরে ভোট গণনা, রেজাল্ট তৈরি করা এবং রেজাল্ট ঘোষণার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী অনেক সংসদীয় আসনে একহাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। এরকম আসনের সংখ্যা হবে পঞ্চাশটির ঊর্ধ্বে। আমার নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছি, বিধি অনুযায়ী যে নির্বাচনের ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে সেখানেও আমরা আমাদের অভিযোগগুলো নিয়ে যাবো এবং সেইসব আসনের ভোটের পুণ:গণনা ও যে অনিয়ম হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাবো।’

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘জামায়াত সবসময় নিয়মতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে, ইনশাল্লাহ। আমরা কোনো অনিয়মতান্ত্রিক হঠকারি পদ্ধতিতে সহিংসতা, চরমপন্থা কোনো পথকে ইসলামী পথ বলে মনে করি না। আমরা মনে করি দেশের জনগণ বিগত নির্বাচনে যেভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছিল, আমরাই শুধু বিস্মিত হইনি, এতে দেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছে, মিডিয়াও বিস্মিত হয়েছে। যারা শত্রুতা করেছে তারাও বিস্মিত হয়েছে, যে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ এত ভোট দিল! নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে রাজধানী থেকে ছুটি নিয়ে যার যার গন্তব্যে যাচ্ছিল, ট্রেনের ছাদে, লঞ্চে, নৌকায়, বাসে কী অভূতপূর্ব দৃশ্য যা বাংলাদেশে নির্বাচন পূর্ববর্তী আগে কেউ এমন পরিস্থিতি দেখেনি। দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখরিত করে তারা রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেছে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার সময়। আর ভোটকেন্দ্রে যেভাবে ভোটারের উপস্থিতি এবং দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় আমরা দেখতে পারছিলাম, ভোট গণনার সময়ও সারা দেশ থেকে খবর পাওয়া গেছে, একের পর এক আমাদের আসনগুলো থেকে বিজয়ের খবর আসতে থাকল, সব আপনারা জানেন। আর পক্ষান্তরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিডিয়ায় ফলাফল বন্ধ করে দিলো।’

আগামী দিনেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে জানিয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি অনুসরণ করে আমরা সরকার এবং জনগণের পাশে আমরা থাকব। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আমাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সততা, সরলতা, বিনয়, ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। আপনার যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে মানুষের উপর হামলে পড়ছেন, এটা থেকে আমরা সংযত থাকব। সরকারের শুরুতেই এ ব্যাপারে আমরা আদর্শের মোকাবেলা আদর্শ দিয়ে করবো, চরিত্রের মোকাবেলা চরিত্র দিয়ে করবো, নৈতিকতার মোকাবেলা নৈতিকতা দিয়ে করবো, যুক্তির মোকাবেলা যুক্তি দিয়ে করবো, কিন্তু সন্ত্রাস-সহিংসতাকে আমাদের আদর্শবান, চরিত্রবান, নৈতিক দিক থেকে আমাদের যারা পার্লামেন্টারি আছে তাদের মোকাবেলায় সহিংসতার পথ যেন কোনো জায়গায় বেছে না নেন। এটুকুই সরকারের শুরুতেই আমাদের অনুরোধ থাকবে। আমরা সব ধরণের নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার এবং জনগণের পাশে থাকবো।’

সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে আমির ড. মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: শাহাবুদ্দিন, মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জেলা জামায়াতে আমির আব্দুল করিম। এসময় মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।