আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, ‘দেশের চাবি জনগণের হাতেই। কিন্তু একের পর এক নির্বাচনে সেই চাবি ব্যবহার করে ভুল তালা লাগানো হয়েছে, যার খেসারত দেশকে দিতে হয়েছে। দেশে এর আগে ১২ নির্বাচন হয়েছে, এবার ত্রয়োদশ নির্বাচন। কিন্তু প্রতিবার যে তালা লাগানো হয়েছে, তা ছিল জং ধরা, ভাঙা ও ভুল তালা। সেই ভুল তালার কারণেই বারবার মানুষের ঘরে, সমাজে ও রাষ্ট্রে হামলা হয়েছে।‘
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জেলার ভান্ডারিয়া হাসপাতাল মাঠে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নিজেকে ‘ভাড়াটিয়া’ ও ‘ওপারের মানুষ’ বলা প্রসঙ্গে শামীম সাঈদী জানান, তার নেছারাবাদে নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং তিনি ভান্ডারিয়ার বৈধ ভোটার।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৮৬ সালে সংসদে গিয়েই বলেশ্বর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছিলেন।
তিনি জানান, জনগণের ভোটে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে তার প্রথম দাবি হবে, কঁচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ। আর নেছারাবাদ থেকে নির্বাচিত হলে সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন।
শামীম সাঈদী অভিযোগ করেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে তাদের আয়-রোজগারের পথ সঙ্কুচিত করা হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরও তারা ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর ও দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আল্লামা সাঈদীর জন্য দেশের মা-বোনেরা দোয়া করেছেন ও আত্মত্যাগ করেছেন। আজ আল্লামা সাঈদীর বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি।’ এই বিচার আদায় করাই তাদের চলমান আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুফাচ্ছির পরিষদের সেক্রেটারি শায়েখ জালাল উদ্দিন, ছারছিনা দরবারের ছোট হুজুর শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছোট ছেলে নাসিম সাঈদী, সাবেক ছাত্রনেতা মো: শফিকুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি মিয়া তমিজ উদ্দিন কাজল, ভান্ডারিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক চঞ্চল জোমাদ্দার, নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সহ-সভাপতি শ্রী বাদল সরকার, ভান্ডারিয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো: নাদিমুল ইসলাম প্রমুখ।



