সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু ইরা মনির (৭) মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার সময় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় হাঁটতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।
ইরা মনি উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়া এলাকার নুর হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় ইরা মনির মা রোববার রাতে থানায় মামালা করলেও পুলিশ এখনো এ ঘটনার কূলকিনারা করতে পারেনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির গলায় এবং হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতের কারণে তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শুরু থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।
এর আগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
ইরার বাবা নুর হোসেন বলেন, ‘আমি মাস্টার পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকি। পেশায় রিকসা চালক। আমার মেয়ে ইরা বাসার অদূরে দাদার বাড়িতে প্রতিদিন আসা যাওয়া করত। দুপুরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে এলাকাবাসী তখন ফেসবুকে আমার মেয়ের ছবি দেখালে আমি দ্রুত হাসপাতাল গেয়ে তাকে সনাক্ত করি।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় একটি স্কেভেটর চালক দেখতে পান, রক্তাক্ত একটি শিশু জঙ্গল থেকে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকায়। তার বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এত কম বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত গভীরে পৌঁছাল, তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কি না, কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’



