খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবী খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত করে নিজেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন ।
এর আগে সাথে আসা বিএনপির কিছু নেতা বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: রফিকুল হক বাবলুকে নাজেহাল করেন।
পরে ডা: বাবলুকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন এবং তাকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে গালাগাল করতে থাকেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করতে উদ্যত হন। পরে এমপি লবী দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি করা হবে বলে জানান।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের বিএনপি সমর্থিত সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সাল থেকে চোখের উন্নত চিকিৎসা করে যাচ্ছে হাসপাতালটি। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়। এক সময় দেশের প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসকরা হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতেন। পরবর্তীতে এটি দলীয়করণের মুখে পড়ে।
২০১৯ সালে হাসপাতালের সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যানসহ অধিকাংশ ট্রাস্টি সদস্য আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান করা হয় ড্যাব নেতা ডা: রফিকুল হক বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান। ১১ সদস্যের বোর্ডে ৫ জন বিএনপি সমর্থিত, দুইজন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ছিলেন। এই বোর্ডের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: রফিকুল হক বাবলু বলেন, সোমবার সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। সেইভাবে আমরা ফুল নিয়ে তৈরি ছিলাম। তিনি আমার কক্ষে এসে বসার কিছু সময় পরই তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে উদ্দেশ্যে করে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। এ পর্যায়ে তারা মব তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমপি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এখন তিনিই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেন, সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ সবাই উত্তেজিত হয়ে পরিবেশ পাল্টে দিলো। এরপর কমিটি ভেঙে দেয়া হলো।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ ৬ বছর। মুখের কথায় এভাবে কমিটি ভাঙা যায় কিনা এটা এমপিই ভালো বলতে পারবেন।
সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী বলেন, ‘হাসপাতাল সম্পর্কে অনেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ করছিল। অনেকের ক্ষোভ ছিল। তাৎক্ষণিক পরিবেশ শান্ত করতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এখন এলাকার মানুষ, চিকিৎসকসহ অভিজ্ঞদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। সবাই মিলে হাসপাতাল পরিচালিত হবে।



