গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগের চালা এলাকায় একটি সুয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা ও সশস্ত্র মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে টুটুল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়ে আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কারখানাটির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দু’টি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল কারখানা থেকে ঝুট আনতে গেলে দলের প্রতিপক্ষরা আপত্তি জানায়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারখানার সামনে ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে দিনভর কয়েক দফায় সশস্ত্র মহড়া ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লোকজনের অবস্থানের কারণে ডেগের চালা সড়কে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িঘরের গেট বন্ধ করে দেন। অনেক ব্যবসায়ীও দোকানের শাটার নামিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ ও মহড়ার সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও রামদা দিয়ে কাঠ ও টিনের অবকাঠামো কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে টুটুল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। পরে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মূল বিরোধ বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে হলেও উভয়পক্ষের সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশও ঘটনাটিতে সম্পৃক্ত ছিল।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি পক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
তাদের দাবি, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল আওয়ামী লীগের সাথে মিলে কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় যে সকল আওয়ামী লীগ নেতারা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তারাই বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার দাবি, বিএনপির মোড়কে মূলত আওয়ামী লীগ নেতারাই এখনো আগের মতোই ব্যবসা পরিচালনা করছে।’
তবে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির ভিত্তিতে তিনি নিজেই ঝুট উত্তোলন করছেন। তার সাথে আওয়ামী লীগের কেউ সম্পৃক্ত নেই।’
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানি বলেন, ‘ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ মারমুখী অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ চলে আসার পর আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’
ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় ডেগের চালা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি আরো বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।


