মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, বোমা বিস্ফোরণ

এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চলে হওয়ায় চরের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। নদী ও কাঁচা রাস্তা পাড় হয়ে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে করে এই এলাকায় হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রাম।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং (ডানে) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং (ডানে) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় চারটি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এসময় হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল হোগল পাতিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।

এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চলে হওয়ায় চরের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। নদী ও কাঁচা রাস্তা পাড় হয়ে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে করে এই এলাকায় হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রাম। এ কারণে চরাঞ্চলের চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এখানে পুলিশ যেতেও ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকা থেকে প্রতি রাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আবুল। বালু উত্তোলনের ফলে আড়িয়াল খাঁ নদে সম্প্রতি ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেন চরের বাসিন্দারা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের মানুষ অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের নেতৃত্বে শামিম আকন, মিরাজ আকনসহ ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য শুক্রবার রাতে দুর্গম চরের বাসিন্দা আক্তার বেপারী, গিয়াস বেপারী ও জলিল বেপারীর পরিবারের চারটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। অর্ধশত বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায়। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয় তারা। হাতবোমার বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত আক্তার বেপারী বলেন, ‘ওরা অতর্কিতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে। বোমা নিক্ষেপ করেছে। আমাদের কাছে কোনো নিরাপত্তা নেই, প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার চাই।’

চরের এক নারী জানিয়েছেন, ‘দলবেঁধে ৭০-৮০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল এসে প্রথমে পাশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপর বাড়ির পুরুষ সদস্য পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। তারপর চালায় লুটপাট ও ভাঙচুর। এরা প্রতিদিন নদী থেকে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে।’

তবে নানা অভিযোগের বিষয় বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ওসি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ‘খবর পাওয়ার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’