পিরোজপুরের নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো— জয়পুর গ্রামের সঞ্জীব সমাদ্দারের ছেলে সৌভিক সমাদ্দার (১১) এবং একই এলাকার রেজাউল মাঝির মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১১)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাবেয়া খাতুনকে ভর্তি করা হয়েছে। আর মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় সৌভিক সমাদ্দারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ছাত্রী রাবেয়া খাতুন জানায়, শনিবার সকালে প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে বসে গণিত ক্লাস করছিল। এ সময় হঠাৎ একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা খুলে সৌভিকের মাথার ওপর পড়ে। পাখার একটি অংশ ভেঙে তার মাথাতেও আঘাত লাগে। এতে তারা দুজনসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়।
ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানরত সহকারী শিক্ষক রিক্তা মণ্ডল বলেন, তিনি গণিত ক্লাস নিচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অঙ্ক করতে দেয়ার পর হঠাৎ শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন পাখাটি খুলে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে গেছে। পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্নিগ্ধা রানী মণ্ডল জানান, ভবনটি পুরাতন হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় সেখানে ক্লাস নেয়া হচ্ছিল। তিনি তখন লাইব্রেরিতে মিটিংয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা দৌড়ে এসে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অতনু হালদার জানান, দুই শিক্ষার্থীকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। অপর শিক্ষার্থীর কানের পাশে কেটে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। একজন সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং অপর শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব এলজিইডির। জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



