দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা নতুনপাড়া গ্রামের কান্দর ও গারা ক্ষেত এলাকায় দুই হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে এসব জমিতে চাষাবাদ প্রায় বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রায় নয় থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটির নিচ দিয়ে এক হাজার এক শ’ ফুট দীর্ঘ পিভিসি পাইপ বসানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলের কৃষিজমিতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেও জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যেত, ফলে কৃষকরা বছরে একবারো ঠিকমতো ফসল চাষ করতে পারতেন না।
গত ৫ জানুয়ারি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় কৃষকের জলাবদ্ধতার দুঃখ-দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর উপজেলা প্রশাসন ৬ জানুয়ারি জলাবদ্ধ স্থান পরিদর্শন করে এবং এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে ২৩ জানুয়ারি সকালে পাইপলাইন স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ বর্মণ জানান, নতুন স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। চলতি মৌসুম থেকেই এই জমিগুলোতে কৃষকরা তিন ফসলী আবাদ করতে পারবেন।
স্থানীয় কৃষক তোমেজ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম খোকন, হানিফ মন্ডল, ছোরহাব, লিটন, পরেশ তালুকদার ও নাজমুল হোসেন বলেন, আমরা প্রায় তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সর্বস্ব হারিয়েছি। এলাকার মানুষের নিজস্ব অর্থায়ন ও ইউএনও মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সার্বিক সহযোগিতায় আবার জমিতে চাষ করতে পারব এটাই আমাদের বড় স্বস্তি। আগে বৃষ্টি হলেই ধান নষ্ট হয়ে যেত, এখন পাইপ বসানোর পর আশা করছি জমি আর ডুবে থাকবে না।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে ঘুড়কা এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। আমরা এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করেছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের গর্বিত করেছে। কৃষিজমি রক্ষা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া উপজেলার অন্য জলাবদ্ধ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোও নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’



