কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেয়া কার্যালয়ে গিয়ে স্লোগান দিয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা সেই ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
এ সময় তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং শেখ মুজিবুর রহমান, পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার ছেলে জয়ের ছবি সম্বলিত ব্যানার দেখা গেছে।
জেলা শহরের স্টেশন রোডের এই কার্যালয়টি ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ভেঙেচুরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। পরে এটিকে ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কার্যালয়টির জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। হঠাৎ সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজনের স্লোগান দেয়ার ভিডিও বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকে শহরের গাইটাল এলাকার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা কামরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন নেতাকর্মী কার্যালয়টির সামনে যান। এরপর তারা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের কয়েকজন এগুলো ভিডিও করেন।
স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ নেতার বেশিরভাগেরই মুখ খোলা ছিল। এদের মধ্যে তিনজন মাস্ক পরা অবস্থায় ছিলেন। তাদেরকে শেখ মুজিবুর রহমান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয় ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে তুহিনের নামে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এই নেতাকর্মীরা প্রথমে কার্যালয়ের পরিত্যক্ত জায়গার সামনে ছবি ও পতাকা হাতে স্লোগান দেন। এরপর তারা শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি সম্মলিত ব্যানার টানানোর চেষ্টা করেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা কামরুল ইসলাম রতন ফেসবুকে সেই ভিডিও পোস্ট দিয়েছেন।
এদিকে কয়েকদিন আগে থেকেই করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনায়েত কবিরসহ জেলার বেশ কয়েকজন নেতা ফেসবুকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন।
জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এমন বিষয় আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হলেও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে এসব করার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি।’



