লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মসজিদ কমিটি কর্তৃক জুমার খুতবা চলাকালীন খুতবায় বাধা প্রদান এবং খতিবকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় বাইতুল মোয়াজ্জেম মসজিদের সামনে উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যক্ষ মাওলানা কাজী ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও আলেম-ওলামারা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা জুমার খুতবা চলাকালীন একজন সম্মানীত খতিবকে অপমান ও খুতবায় বাধা প্রদানের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানা গেছে, পাটগ্রামের বেলতলী পাকা মসজিদে প্রায় দুই বছর থেকে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মাওলানা শাহিনুর রহমান সিদ্দিকী। শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার খুতবার আলোচনা করতে গিয়ে ফেরাউনের প্রসঙ্গ আসে।
খুতবায় সূরা আল-কাসাসের ১৫ নম্বর আয়াতের তরজমা করে তিনি বলেন, চার হাজার বছর আগে ফেরাউন তার দলের কেউ অপরাধ করলে কোনো বিচার করত না। কিন্ত হযরত মূসা (আ:)-এর দলের কেউ অপরাধ করলে তার বিচার তাৎক্ষণিক করা হতো।
খুতবায় মাওলানা শাহিনুর এই বয়ান করলে উপস্থিত সরকারদলীয় কিছু মুসল্লির মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন, ইমাম সাহেব সরকারের উদ্দেশে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাই এই ঘটনার পর মসজিদ কমিটি পরবর্তী শুক্রবার জুমার নামাজে মাওলানা শাহিনুর রহমানকে মসজিদে আসতে নিষেধ করেন।
কিন্ত শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাওলানা শাহিনুর মসজিদে আর ইমামতী করবেন না বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিতে মসজিদে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কিছু মুসল্লির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে অন্য একজনের ইমামতীতে তিনি সেখানে নামাজ পরে চলে আসেন।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফলে গোটা জেলায় বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। এ নিয়ে ইমাম ও মসজিদ কমিটি পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রতন বলেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) মসজিদে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা পূর্বপরিকল্পিত। মাওলানা শাহিনুর রহমান জুমার খুতবায় কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কেউ আশা করেনি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইমাম সাহেব স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে মসজিদে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার পায়তারা করেছে। আমরা তার নিন্দা জানাই।
মসজিদ কমিটির এই সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শনিবার (১৮ জুলাই) মসজিদ কমিটির অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন মাওলানা শাহিনুর রহমান।
তিনি বলেন, আমি মুসল্লিদের কাছ থেকে বিদায় নিতে গিয়েছিলাম। কিন্ত মসজিদে প্রবেশ করার আগেই কিছু লোক আমাকে বাধা প্রদান করে।
তিনি দাবি করেন, আমি বহিরাগত লোকজন নিয়ে গিয়েছি বলে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে আমি কোথাও তাফসীর মাহফিল করলে আমার একটা নিজস্ব মিডিয়া আছে, আমি সেই মিডিয়া নিয়ে যাই।
তিনি আরো বলেন, আমার ধারাবাহিক আলোচনা করতে গিয়ে কোরআনের সূরা আল-কাসাসের ১৫ নম্বর আয়াত সামনে আসে। সেখানে হযরত মূসা (আ:) এক ব্যক্তিকে ঘুষি দিয়ে মেরে ফেলেছিলেন। ওই ব্যক্তি ছিলেন ফেরাউনের লোক। ওই ব্যক্তি যেহেতু ফেরাউনের লোক সেহেতু তিনি ছিলেন সরকারি দলের লোক এবং মূসা নবি যেহেতু ফেরাউনের বিপক্ষে তাই তিনি ছিলেন বিরোধীদলের।
কোরআনের ওই আলোচনা করতে গিয়ে তারা ধরে নিয়েছে, আমি মনে হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বুঝিয়েছি। যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।



