ফ্যাসিস্ট আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য যাচাই চলছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যিনি তথ্য সংগ্রহ করবেন তিনি সেই তথ্য স্পট থেকেই কম্পিউটারে আপলোড করবেন। সেখান থেকে অটোমেটিক্যালি জেনারেট হবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত, কারা উপযুক্ত না।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী |নয়া দিগন্ত

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনিতে যেসব অনিময় দুর্নীতি হয়েছে সে সব তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় সমাজ সেবা অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি যাবে। ফ্যামিলি কার্ডের কাছে কারো যেতে হবে না। যিনি তথ্য সংগ্রহ করবেন তিনি সেই তথ্য স্পট থেকেই কম্পিউটারে আপলোড করবেন। সেখান থেকে অটোমেটিক্যালি জেনারেট হবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত, কারা উপযুক্ত না। ফ্যামিলি কার্ড পাবে সবাই। কিন্তু উপকারভোগী নির্বাচন হবে কম্পিউটারে। যারা নির্বাচিত হবেন তাদের পরে কিছুটা এটা যাচাই-বাছাই হবে।’

তিনি বলেন, ‘ম্যাক্সিমাম দশ থেকে বারো সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় রংপুর শহরসহ সর্বত্রই চালু হয়ে যাবে ফ্যামিলিকার্ড, ইনশাল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে আর সংসদের কাছে। কাজেই আমরা ভেরি মাচ ক্লিয়ার। আমাদের প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান আমাদের সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে একদম জিরো টলারেন্স। কোনো পারসেনটেজ নাই। দুর্নীতি করলে কাউকে কোনো ক্ষমা করা হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে যেটা হয়েছে সেটার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু করেছিল। আপনারা দেখেছেন যে, আমাদের দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেটার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে। কাজেই সেটা নিয়ে কাজ চলছে। দুর্নীতি ধরার জন্য দুদকসহ অন্য যারা আছে তাদেরকে ওই কাজের জন্য লাগিয়ে দিয়েছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘১৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি। কোনো ধরনের দুর্নীতির সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই। এইটা আমারা ইনসিওর করতে চাই। কারণ আমার তো ভাই দিনশেষে ওই ভোটারের কাছে যেতে হবে, আবারো ভোট চাওয়ার জন্য। আর সরকারেরও পার্লামেন্টে জবাবদিহি করতে হবে এবং দেখেছেন তো সংসদের অবস্থা। সংসদে এখন সবকিছু আলোচনায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত প্রশ্ন উত্তর দেন। আমরা তো দেই। কাজেই আমরা একটা ভাইবারেন্ট গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। মাননীয় সংসদ নেতা চায় এবং বিরোধী দল এই পর্যন্ত আমাদেরকে যে পরিমাণ সহযোগিতা সংসদীয় গণতন্ত্রে করা উচিত সেটা তারা করেছে।’

এর আগে, সমাজসেবার বিভিন্ন অফিস ঘুরে দেখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। এসময় তিনি বিভিন্ন অফিস কক্ষে ‍ধুলার কারণে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে রংপুর বিভাগের আট জেলার সমাজকল্যাণ ও সমাজ সেবার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।