তজুমদ্দিনে মিথ্যা অপবাদে নারী-পুরুষের গলায় জুতার মালা দিয়ে হেনস্তা

ভুক্তভোগী শাহে আলম বাদি হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা)

Location :

Bhola
গ্রেফতার চাঁদাবাজরা
গ্রেফতার চাঁদাবাজরা |নয়া দিগন্ত

ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে মিথ্যা অপবাদে জুতার মালা দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ ঘটনায় পুলিশ চার চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।

গ্রেফতাররা হলেন সজিব (২৮), রাকিব ভূট্টো, রায়হান (১৯) ও রাসেল (২১)।

থানা পুলিশ ও এজহার সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের মেঘনার জলদস্যু দুলাল বাহিনীর প্রধান দুলাল প্রধানের ছেলে সজিব উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শাহে আলমকে সরকারি আবাসনের ঘর দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। শাহে আলম চাঁদা দিয়ে ঘর নেয়ায় ডাকাত সজিব তার ওপর ক্ষীপ্ত হতে থাকে।

এক পর্যায়ে গত ৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহে আলম (৫৮) ব্যক্তিগত কাজে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদ মেম্বারের বাসায় যায়। একই সময় ভুক্তভোগী নারী তাসলিমা বেগম (৫০) ব্যক্তিগতকাজে মেম্বারের বাসায় গেলে সজিবের নেতৃত্বে শরীফ জমাদার, ভেট্টো, সুমন ভূলাই, মহিউদ্দিন মাঝি, সবুজ ভূলাই, রুবেল, সিদ্দিক ও জুয়েলের নেতৃত্বে নারী-পুরুষকে অসামাজিক কার্যকলাপের অপবাধ দিয়ে পুনরায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় তাদেরকে মারপিট করা হয়। পরে তাদের জোরপূর্বক জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে অপমান ও হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে এবং এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহে আলম বাদি হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করে।

এর আগে কোরবানির ঈদের আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসারনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানকে চাঁদার দাবিতে প্রকাশ্যে মারপিট করে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে সোনপুর আবাসনের বাসিন্দা এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেয় সজিব। তাতে মহিলা রাজি না হওয়ায় গর্ভবতী সেই মহিলাকেও সেসময় মারপিট করা হয়। সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি মেঘনার কুখ্যাত জলদস্যু দুলাল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পালন করতেন বলেও এলাকাবাসী জানায়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’