উজিরপুরে পাম্পে তেল সঙ্কট, খুচরায় বাড়তি দামে বিক্রি

হারতা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ টাকা, ডিজেল ১৬৫ টাকা, ধামুরা বাজারে পেট্রোল ১৯০ টাকা, ডিজেল ১৬০ টাকা, জল্লা বাজারে পেট্রোল ২১০ টাকা, সাতলা বাজারে ২২০ টাকায় তেল বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।

Location :

Wazirpur
উজিরপুর পাম্পে তেল সঙ্কট
উজিরপুর পাম্পে তেল সঙ্কট |নয়া দিগন্ত

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের উজিরপুরে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দু’টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় লাইসেন্সবিহীন খুচরা দোকানে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এই বৈপরীত্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাননি গ্রাহকরা।

উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, হারতা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ টাকা, ডিজেল ১৬৫ টাকা, ধামুরা বাজারে পেট্রোল ১৯০ টাকা, ডিজেল ১৬০ টাকা, জল্লা বাজারে পেট্রোল ২১০ টাকা, সাতলা বাজারে ২২০ টাকায় তেল বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।

মোটরসাইকেল চালক খলিল বলেন, ‘পাম্পে গেলেই বলা হচ্ছে তেল নেই অথচ একটু দূরে গেলেই একই তেল বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো পাম্পে যদি সত্যিই তেল না থাকে তাহলে বাজারে এলো কীভাবে? বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছে খুবই সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট এখানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সীমিত রেখে বা বন্ধ দেখিয়ে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। এতে করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেয়া হচ্ছে।’

কৃষক মিজানুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এখন সেচের মৌসুম চলছে। এ সময় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ধানসহ অন্য ফসল বাঁচানো একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজেল সঙ্কটের কারণে আমরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দাম এতো বেশি যে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা খুবই কষ্টকর। তারপরও ফসল বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।’

তবে একটি ফিলিং স্টেশন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যা আসে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

উজিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অবৈধভাবে তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’