ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী বাড়ছে, আর সেই সাথে বাড়ছে চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় শিশু ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু ওয়ার্ডে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৫৪০ শিশু ভর্তি রয়েছে, যার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ স্পষ্ট। চিকিৎসক ও নার্সদেরও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
চলতি মাসের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশেরই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়েছে।
হাসপাতালে ‘হাম বা মিজেলস কর্নার’ চালু থাকলেও সেখানে রোগীর তুলনায় শয্যা কম। ১০ শয্যার কক্ষগুলো দ্রুতই পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের স্থান সঙ্কটের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ অবস্থায় হাসপাতালের অষ্টম তলায় আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ওয়ার্ড চালু হলে আক্রান্ত শিশুদের পৃথকভাবে রাখা সহজ হবে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
হাম মেডিক্যাল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ডা: গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এখনো আইসিইউ প্রয়োজন এমন রোগী পাওয়া যায়নি।’
অন্যদিকে, জেলার ১৩টি উপজেলায় কমিটি গঠন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘উপজেলাগুলোতে কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে। যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা দেয়া যায়।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা কার্যক্রম জোরদার, শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তা না হলে এই সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



