মদনে হাওরবাসীর স্বপ্ন তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে

এবার মদন উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। তবে এবার অকাল বন্যা, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২৩২ হেক্টর জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Location :

Madan Upazilla
হাওরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে
হাওরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদনে অতিবৃষ্টির কারণে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। হাওরে এবার বোরো ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই নানাভাবে সঙ্কটে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট হয়েছে জলাবদ্ধতা। শিলা বৃষ্টিতেও ক্ষতি হয়ে গেছে কয়েক একর জমি। যুক্ত হয়েছে অকাল বন্যার শঙ্কা। এরই মধ্যে জলাবদ্ধ জমি উদ্ধারে সেচ পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে কৃষকরা জানায়, নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে পাকা ও আধা পাকা ধান কাটছেন তারা। হাওরে বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক স্থানে কম্বাইন হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার এখনো সব হাওরে ধান পাকেনি। এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হওয়ায় ধান পাকতে সময় নিয়েছে বেশি।

তারা আরো জানায়, নানামুখী সঙ্কটে থাকায় হাওরের কৃষকরা অধিক মূল্য দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না। শ্রমিক সঙ্কটে ভুগছেন তারা। এতে অনেক জমি পানির নিচেই পড়ে রয়েছে। কেউ কেউ একবারে জমিতে কোনো কাঁচি লাগাতে পারেননি। যেসব ধান সংগ্রহ করেছিলেন তাও মূল্য কম থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না। বিক্রির আশায় হাওরে ধান রাখায় ধানে গজ ধরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মদন উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। তবে এবার অকাল বন্যা, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২৩২ হেক্টর জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন এর দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে।

মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা গ্রামের তলার হাওরের কৃষক জয়কুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পাঁচ একর বোরো জমি রোপন করেছিলাম। আমার তিন একরই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। দুই একর মাথা ভাসা রয়েছে। আমার জমির সাথে আরো কয়েকশত একর জমি বৃষ্টির পানির নিচে রয়েছে। তাই আমরা ১৬টি শ্যালো মেশিন দিয়ে ১৩ দিন যাবৎ রাত-দিন জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখি বেড়ি বাঁধের ভেতরের যে জমিগুলো রয়েছে তা কাটতে পারি কি-না।’

তবে ডিজেলের মূল্য বেশি থাকায় এ ব্যাপারে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক রুকন মিয়া বলেন, ‘আমি তিন একর জমি রোপণ করেছিলাম। দুই একরেই জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে কাঁচি লাগাতে পারলাম না। কিভাবে সামনের দিনগুলো যাবে তা বুঝে উঠতে পারছি না।’

উপজেলার পৌর সদরের কৃষক আল মাহবোব আলম আল আমিন বলেন, ‘হাওরের কৃষকরা এক দশক ধরে ধান কাটায় অনেকটা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই শ্রমিক কম। কিন্তু এবার হাওরে পানি থাকায় শ্রমিকের দরকার পড়েছে। শ্রমিক পাওয়ায় এখন বড় সমস্যা। এক হাজার ২০০ টাকা দিয়েও একজন শ্রমিক পাওয়া যায় না।’

মদন উপজেলার কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, হাওরের নিচু জমি ৭৫ শতাংশ কাটা সম্ভব হয়েছে। উঁচু জমি কাটা হয়েছে ৩৩ শতাংশ। এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর বোরো জমি আবাদ হয়। তবে পাহাড়ি ঢল, অকাল বন্যা, বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় ও শিলা বৃষ্টিতে প্রায় ২৩৩ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বাকি জমিগুলো ভালোভাবেই কাটা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘মগড়া নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া কিছু জমিতে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমি শুনেছি, দেওসহিলা হাওরে বৃষ্টির পানি শ্যালো মেশিন দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছে। এখানে আমি কৃষি অফিসারকে পাঠাব।’

তবে কৃষকদের এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করা যায় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’