কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১ হাজারের অধিক আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
মামলায় ৩৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে হাপানিয়া ও টান লক্ষীয়া গ্রামের অজ্ঞাতনামা আরো ১ হাজারেরও বেশি গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হাপানিয়া গ্রামের শামীম(৩০), রাকিব(১৯), রিপন(৩২), শহীদুল ইসলাম(৩০), স্বপন মিয়া(৩৫), কফিল(৫৭), টান লক্ষীয়া গ্রামের মাসুদ মিয়া(৪৩), এখলাছ(১৯), শামীম(৩২), জুয়েল(২৮), আসাদ(৩৫), হানিফ(২৯) ও বরাটিয়া গ্রামের জালালউদ্দীন নয়ন(৪৫)।
রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার টান লক্ষীয়া মীরপাড়া গ্রামের একটি মাঠে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে টান লক্ষীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ফের শনিবার বিকেলে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়ে হাপানিয়া গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল ছুড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান, এসআই মশিউর রহমান, কনস্টেবল জাহিদুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্যকে আহত করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুলিশের ওপর হামলায় গ্রামবাসীদের প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে চাইলে এজাহারভুক্ত আসামিরা গ্রামবাসীদের পুলিশের ওপর ক্ষেপিয়ে দেয়। যার কারণে গ্রামবাসী পুলিশের ওপর হামলা করে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলায় অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’



