বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনার বামনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মনোয়ারা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোসা: ডালিমা আক্তার বাদী হয়ে আজ শনিবার সকালে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
এজাহার ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মধ্য আমতলী গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মনোয়ারা বেগমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মো: হানিফ খাঁ ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগমের বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে গত চার-পাঁচ মাস ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষ তা অমান্য করে এবং গায়ের জোরে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
গতকাল শুক্রবার সকাল অনুমান ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ হানিফ খাঁ, তার স্ত্রী কহিনুর বেগম ও শ্যালক আলামিনসহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় লোক জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ জমিতে রাজমিস্ত্রি নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। এ সময় মনোয়ারা বেগম ঘর থেকে বের হয়ে কাজ বন্ধ করতে নিষেধ করলে আসামিরা তাকে হুমকি-ধামকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় এবং কাঠের চেরা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর আসামি হানিফ খাঁ লোহার রড দিয়ে মনোয়ারা বেগমের কপাল ও মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তার বুকের ওপর উঠে শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষ করে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ‘২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, বরগুনা’-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মেয়ে ডালিমা আক্তার বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা আমার মাকে পিটিয়ে ও বুকের ওপর পাড়া দিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন খান জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল শেষ করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



