ফেনীর জহিরিয়া মসজিদে মাসব্যাপী ইফতার

এই ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব ভেদাভেদ থাকে না। এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ায়। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
ইফতারে অংশগ্রহণকারীরা
ইফতারে অংশগ্রহণকারীরা |নয়া দিগন্ত

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের জহিরিয়া মসজিদে চলছে হাজারো রোজাদারের ইফতার। এতে শামিল হন নানা শ্রেণি-পেশার রোজাদাররা। অনেকে সওয়াবের উদ্দেশ্যে মুসল্লিদের ইফতারের জন্য নির্ধারিত তহবিলে দান করে থাকেন। আবার অনেকে ইফতার সামগ্রী দিয়েও শরিক হন।

আসরের নামাজের পর থেকে মসজিদের তৃতীয় তলায় সমাগম হয় হাজারো মুসল্লির। সামনে সাজানো থাকে হরেক রকম ইফতারি। সাথে থাকে শরবত ও পানি। কোনোদিন বুট-মুড়ি-খেজুর কিংবা কোনোদিন বিরিয়ানী। আসরের নামাজ পড়ে মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে বসে যান। পথচারী, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণির মানুষ এ ইফতারে শামিল হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের তৃতীয় তলায় ইফতারে জমায়েত হন এক থেকে দেড় হাজার রোজাদার। সকাল থেকে ইফতারি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন মসজিদ সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে বার্বুচিরা।

ইফতারের ব্যবস্থাপনার আহ্বায়ক হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম সোহেল, যুগ্ম-আহ্বায়ক এমদাদুল হাসান বিপ্লব, সদস্য সাইদুল মিল্লাত মুক্তা, এয়াকুব আলী হক সাব ও খুরশিদ আলম ভূঞা। সুষ্ঠুভাবে ইফতার পরিবেশনের জন্য রয়েছেন মসজিদের আটজন খাদেম ও ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এ আয়োজনের তদারকী করেন মুসল্লী প্রতিনিধি মো: ফারুক হারুন।

এমদাদুল হক বিপ্লব জানান, জহিরিয়া মসজিদে ইফতার আয়োজন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সওয়াবের উদ্দেশ্যে এ আয়োজনে অনেক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি সহায়তা করে থাকেন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে কেনাকাটা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে আসা অনেক মানুষ মসজিদের ইফতারে অংশ নেন।

খুরশিদ আলম ভূঞা জানান, এই ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব ভেদাভেদ থাকে না। এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ায়। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।

মসজিদের মুসল্লী প্রতিনিধি মো: ফারুক হারুন বলেন, ‘২০০৭ সালে মক্কায় মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করার সুবাদে গণইফতার দেখে এ ধরনের আয়োজনের স্বপ্ন দেখি। এরপর ২০০৮ সাল থেকে জহিরিয়া মসজিদে সে আদলে ইফতার কার্যক্রম চালু করি। মাসব্যাপী এ ইফতারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসাথে ইফতার করার দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগে।’