পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একটি সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নকশাবহির্ভূত কাজের প্রতিবাদে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে হলুদিয়া খালের ওপর একটি টেকসই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে ৪০ লাখ ৫০ হাজার ৭১১ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চরম অনিয়ম করে আসছে। ঢালাই কাজে নিম্নমানের বালু ও নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ঢালাইয়ের ভেতরে মাটি দিয়ে তার ওপর কংক্রিট ঢালা হয়েছে। এছাড়া লোনা পানি ব্যবহার করে প্লাস্টার ও ঢালাইয়ের কাজ করায় পুরো কাঠামোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। হাত দিয়ে নাড়া দিলেই রড উঠে আসছে এবং প্লাস্টার খসে পড়ছে। এসব অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কাজ বন্ধ করে দেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাজটি ‘খবির এন্টারপ্রাইজ পটুয়াখালী’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেলেও তারা সেটি সাব-কন্ট্রাক্টে মাহবুবুল আলম নামে একজনকে বুঝিয়ে দেয়।
সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুবুল আলম অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কাজটি স্থানীয় একজন রাজমিস্ত্রিকে দেয়া হয়েছিল। তিনি টাকা বেশি নিয়েও কাজ সঠিকভাবে করেননি।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ প্রথমে দফতরে উপস্থিত না থাকলেও পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ত্রুটিপূর্ণ বেইজ ভেঙে নতুন করে স্থাপনের নির্দেশ দেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁঞা বলেন, ‘সেতু নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মানসম্মতভাবে সেতুর কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।



