ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬৩৭ কিলোমিটার সীমান্তসহ রংপুর বিভাগের চার জেলায় প্রায় তিন হাজার বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড়ে নির্বাচন উপলক্ষে বসানো চেকপোস্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
কর্নেল শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সারাদেশে তার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। আজ (শনিবার) সারাদেশে বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করে এবং রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের ভোটদান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে, সর্বদা আমাদের কাজটা করে যাবো।’
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় আমাদের বিজিবি মোতায়েন হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনীর সাথে যেমন আর্মি, আনসার, র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আমরা সমন্বয় করে কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘রংপুর সেক্টরের আওতাধীন রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় বিজিবি সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। এখানে সিটি করপোরেশনসহ ২৭টি উপজেলা রয়েছে। এই ২৭টি উপজেলার মধ্যে ২৬টিতে বেজ ক্যাম্প করে ৭৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। অলমোস্ট তিন হাজারের কাছাকাছি সদস্য এখানে মোতায়েন থাকবে। আমাদের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করবে।’
কর্নেল শফিক আরো বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আমাদের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অলরেডি চালু হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ডগ স্কোয়াড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে সীমান্তে আমাদের ৪৪০০ কিলোমিটার বর্ডার রয়েছে। এই অংশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা, পুলিশের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন জিনিস সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের কার্যক্রম যেন আরো গতিশীল করতে পারি সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। বিজিবি সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী। আমরা মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের দেখাতে চাই। এবং সেই আস্থাকে সামনে রেখে সকলের সাথে সম্মিলিতভাবে এই জাতীয় ইলেকশন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখরভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে আমরা বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবো।’



