নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় আগুনে পুড়ে বাসন্তী রাণী (২৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। তবে, স্বজনরা দাবি করেছেন তাকে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাসন্তী রাণী ওই গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দের স্ত্রী।
বাসন্তী রাণীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু বলেন, ‘সোমবার সকালে ক্ষেতে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই মাঠে চলে যাই। বাড়িতে শুধুমাত্র বউমা বাসন্তী একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠ থেকে বাড়িতে এসে দেখি চুলার পাড়ে বউমার শরীর আগুনে জ্বলছে। এ সময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌঁড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঝলসে গেছে। আমার ধারণা, হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা যেতে পারে।’
বাসন্তী রাণীর ছোট বোন লক্ষী রাণী বলেন, ‘কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শাশুড়ি মারা গেছেন। মাত্র তিন বছরের এক কন্যা শিশু নিয়ে শ্বশুরের সাথে বাড়িতে থাকতেন বাসন্তী। এছাড়া স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন, তার সাথে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায়ই মোবাইলফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই বাসন্তী অতিষ্ঠ হয়ে আমাদের মোবাইলফোনে জানিয়েছিলেন বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা। অথচ আজ তার লাশ দেখছি।’
বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, ‘আমার ভাগনী আগুনে পুরে মারা যায়নি। তাকে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে।‘ তিনি দাবি করে বলেন, ‘মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানাভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যেভাবে লাশ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে, তাতে বাঁচার জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি ভালোকরে খতিয়ে দেখতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’
রাণীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত বাসন্তী রাণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।



