নির্বাচনের আগে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণার পর সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু যে কারণে হাজারো ছাত্র-জনতা জীবন দিলো সেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার না করে যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো হলে জনগণ সেটা মেনে নেবে না। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জনগণ যেন বিনা বাধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
শনিবার (১৪ জুন) বগুড়া শহরের শাহওয়ালি উল্লাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের কর্মপরিষদ সদস্যদের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যেই সারাদেশে আসন ভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে দলের প্রার্থীর পক্ষে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগ দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়েই মূলত: দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চায়। এ লক্ষ্যে আমাদের নেতাকর্মীরা জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘একমাত্র জামায়াতে ইসলামী সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব তৈরি করছে। সৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আমাদেরকে জনগণের ভালোবাসা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় গুনাবলি অর্জন করতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের পক্ষ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে, পছন্দ হোক বা না হোক প্রতিটি নেতাকর্মীকে তাকেই বিজয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ টি এম আজহারুল ইসলামের রায়ের মাধ্যমে পরিস্কার হয়েছে, শেখ হাসিনা বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করেছে। আপিল বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে পরিস্কার বলেছেন, ওই বিচারে দেশী বা বিদেশী কোনো আইনের তোয়াক্কা করা হয়নি। ন্যায় বিচারের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সুতরাং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতাদেরকে যারা হত্যা করেছে সেই বিচারের সাথে যারাই জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেইসাথে এখনো সরকারের ভেতরে-বাইরে যেসকল ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিবাদের দোসররা একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে প্রবেশ করে নতুন করে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ আর কোনো ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেবে না।’
শিক্ষাশিবিরে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক আব্দুর রহীম, পাবনা জেলা আমির অধ্যাপক তালেবুর রহমান, জয়পুরহাট জেলা আমির ডা: ফজলুর রহমান সাইদ, বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া শহর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলম।
এ শিক্ষাশিবিরে বগুড়া শহর, বগুড়া জেলা, জয়পুরহাট জেলা, সিরাগঞ্জ জেলা এবং পাবনা জেলা জামায়াতের পুরুষ ও নারী কর্মপরিষদ সদস্যরা অংশ নেন।



