প্রধানমন্ত্রীর পলিসি, স্ট্র্যাটেজি ও তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘১৮০ দিন আমাদের পার হলো, এটা ইভালুয়েট করার জন্য একটা কমিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৈরি করে দিয়েছেন। যেখানে উপদেষ্টা ও স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা আছেন, আমি নিজেই সে কমিটির একজন মেম্বার। আমি উনার সাথে বৈঠক করেছি। প্রতি ছয় মাস পরপর এই জিনিসগুলো অ্যাসেস করা হবে—কোন মন্ত্রণালয়ে কি হচ্ছে, কি হচ্ছে না।‘
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে বিভাগের জেলা প্রশাসক ও কালচারাল অফিসারদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম।
ডা: জাহিদ বলেন, ‘আমরা খুবই গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে শোরগোল করি। পৃথিবীতে প্রচুর পণ্ডিত আছেন যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন ডেস্পাইট সাম প্রবলেমস। এটার প্রধান কারণ, যদি ভোটের ব্যবস্থাটা ঠিকঠাক থাকে, সরকারকে সারাক্ষণ জনগণের কথা হিসেব করতে হয়।‘
তিনি বলেন, ‘আমরা এক্সপেক্ট করি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটা ঠিকঠাক নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকবে, একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে ও সরকার জনগণের সাথে কমিউনিকেট করবে। জনগণের কাছে রিপ্রেজেন্ট করবে। কারণ তাকে পাঁচ বছর পর আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ইন্টারিম সরকারের সময় মাঝে মাঝে কবির সুমনের একটি গান বলেছি। গানটি এরকম— ‘নেতা হেলিকপ্টারে আসছেন, আসার পরে রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেছে’ ইত্যাদি ইত্যাদি। তো ওই গানটার শেষে একটা জায়গায় উনি বিদ্রুপ করে বলেন, ‘ভোট মানুষের মুখে ব্যালট পেপার, নেতা দেখছেন’। মানে উনি বিদ্রুপ করছেন নেতা মানুষের মুখ দেখে না, তিনি ওখানে একটা ব্যালট পেপার দেখেন।‘
তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন ব্যালট পেপারে ছিলাম না। আমাদের চেহারা ব্যালট পেপারেও যদি হাসিনা দেখতো, তাহলে এ দেশটাকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে পারতো না।‘
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো একদিন জনগণের সামনে দাঁড়াবো, আমি কি করেছি, জিনিসপত্রের দাম আমি কত রেখেছি, বিদ্যুতের কি হয়েছে। এই বিদ্যুৎ সঙ্কটের জন্য আমাদের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডা: জাহেদ বলেন, ‘আপনারা আশা করি আমাদের অবস্থানটা বুঝতে পারছেন। এটা জনগণের নির্বাচিত একটা সরকার, খুবই বড় একটা বিজয় এই সরকারকে জনগণ দিয়েছে, দায়িত্বে পাঠিয়েছে। সরকার জনগণের এই কমিটমেন্ট অ্যাট এনি কস্ট রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেই। আমি নিশ্চয়ই আপনাদের সহযোগিতা পাব।’
তিনি বলেন, ‘আগামীতে দেশের প্রতিটা স্কুলে পড়াশোনার বাইরে এক্সট্রা কারিকুলাম বই পড়ার একটা কর্মসূচি ম্যাসিভ স্কেলে শুরু হতে যাচ্ছে। খেলার কথা দেখছেন ও এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কথা দেখছেন। সো যত রকমভাবে সম্ভব প্রধানমন্ত্রী এতে শিশুদের ইনভলভ করাতে চান।’
ডা: জাহেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা চান সেটা হচ্ছে—খেলা আমরা স্বাস্থ্যের জন্য খেলেছি, খেলতে ভালো লাগে খেলেছি; কিন্তু এ প্রত্যেকটা জিনিসই তো মনিটাইজেশন সম্ভব। মানে এগুলো করে উপার্জন করতে পারেন ও এগুলোর সাথে রিলেট করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। খেয়াল করবেন এবার বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বলে ৮০০ কোটি টাকার একটা বরাদ্দ আছে। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমির একটা ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি হয়েছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমি মানে ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি। সেই জিনিসগুলোর ক্ষেত্রে বাজেট কুড গো অ্যানিহোয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যদি নতুন করে স্পোর্টসের বক্তব্য দেখেন, ওনার বক্তব্যের মধ্যে কিন্তু এই কথাটা থাকেই, ফুটবলের মধ্যেও থাকেই—সেটা হচ্ছে এগুলো পেশা হিসেবে যাতে কেউ নিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন এই কাজগুলো করবেন, অবশ্যই আমরা সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বিনোদনের জন্য, আনন্দের জন্য ও বিপথে যাওয়া ঠেকানোর জন্য করব, দ্যাটস ফাইন! কিন্তু এগুলো প্রত্যেকটা পেশা হিসেবে নেয়া যেতে পারে—এই সচেতনতাটা সমাজে ও অভিভাবকদের মধ্যে তুলে ধরা। বিশেষ করে যাদের ওইরকম যোগ্যতা দেখা যাচ্ছে, তাদের যদি আমরা ট্রেইন করি তাহলে সেরকম জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে—এই মেসেজটা বা এই ক্যাম্পেইনটাও কিন্তু দরকার আছে। খুবই জরুরি ভিত্তিতে দরকার আছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকটা জিনিস চান, সেটা হচ্ছে তিনি পলিসি নির্ধারণ করছেন ও আমাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই করছেন। আমরা সারা বছর যেন আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাই।‘



