নারায়ণগঞ্জে ব্যালটে নেই ধানের শীষ ও পরিচিত দলগুলোর প্রতীক

ধানের শীষের মার্কা না পাওয়াতে বিএনপির ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভক্তি। অন্যদিকে ইসলামী ভাবধারার শিবিরে তৈরি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষেরই প্রত্যাশা ছিল পরিচিত প্রতীকেই ভোট দেয়ার সুযোগ হবে।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন |নয়া দিগন্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটের ব্যালটে নেই ধানের শীষ ও পরিচিত ইসলামী দলগুলোর প্রতীক। এখানে ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে প্রার্থী নয়, বরং অনুপস্থিত প্রতীক। সে শূন্যতাই ধীরে ধীরে ভোটারদের মধ্যে তৈরি করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন ভোটার রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিতে। যা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে পাঁচ শতাধিক মাদরাসা নিয়ে এলাকাটিতে ইসলামী ভাবধারার ভোটারদেরও শক্ত অবস্থান রয়েছে। ফলে স্থানীয় ভোটাররা ঐতিহ্যগতভাবে দুই ভাগে। একদিকে ধানের শীষের সমর্থকরা এবং অন্যদিকে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটাররা।

ধানের শীষের মার্কা না পাওয়াতে বিএনপির ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভক্তি। অন্যদিকে ইসলামী ভাবধারার শিবিরে তৈরি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষেরই প্রত্যাশা ছিল পরিচিত প্রতীকেই ভোট দেয়ার সুযোগ হবে।

দেখা গেছে, জোটগত সিদ্ধান্তে বিএনপি এ আসন ছেড়ে দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোটও এ আসনে নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে শাপলা কলি প্রতীক দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। ফলে ভোটের ব্যালটে নেই ধানের শীষ, নেই পরিচিত ইসলামী দলগুলোর প্রতীকও। এ অনুপস্থিতিই নারায়ণগঞ্জ-৪ এর ভোটারদের মনে তৈরি করেছে এক ধরনের শূন্যতা।

স্থানীয় ভোটার ও বিএনপির সমর্থক জুনায়েদ বাবু বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগ পর ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে ভেবে আমরা আশাবাদী ছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিল ধানের শীষে ভোট দেবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের কারণে খেজুর গাছকে সমর্থন দিতে বলা হয়েছে। এটা আমাদের চাওয়ার প্রতিফলন নয়।’

অন্যদিকে ইসলামী জোটের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ইসলামী ধারার কোনো দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে। কিন্তু এখানে এনসিপির প্রার্থী দেয়া হয়েছে। জোটের হিসাব আমরা বুঝি, কিন্তু ভোটার হিসেবে আমরা হতাশ। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী মাঠে এখন এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি। রাজনৈতিক সমঝোতার অঙ্কে প্রার্থী নির্ধারণ হলেও ভোটারদের আবেগ ও প্রত্যাশা সেখানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। পরিচিত প্রতীকের অনুপস্থিতিতে এ আসনের ভোটের রাজনীতি যেন ঢুকে পড়েছে এক ‘দোদুল্যমান’ পরিস্থিতিতে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন ও সংগ্রামে জুলুম-নির্যাতনের পর বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেবেন। সেই আশা আমাদের পূরণ হয়নি। তবে, বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাসেমীকে খেজুর গাছ মার্কায় সমর্থন দিয়েছে। তাই হতাশা ও ক্ষোভকে চেপে রেখে আমরা নেতাকর্মীরা খেজুর গাছকেই বিজয়ী করে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

আলিরটেক মাদরাসার সহকারী প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, আমরা একটি ইসলামিক মার্কায় ভোট দেবো। কিন্তু জোট থেকে সমমনা দল হিসেবে এনসিপিকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। ইসলামী দলের প্রার্থী এনসিপির প্রার্থী থেকে লক্ষাধিক ভোটে এগিয়েছিলেন। তারপরও তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমাদের আশা পূরণ হয়নি, তাই আমরা হতাশ।’