যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন কম, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ঢল

দুপুর পর্যন্ত ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন একসাথে বাড়ির পথে নামেন হাজারো মানুষ। মুহূর্তেই যাত্রীতে ভরে যায় বাসস্ট্যান্ডগুলো।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন কম, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ঢল
যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন কম, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ঢল |নয়া দিগন্ত

দুপুর পর্যন্ত ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন একসাথে বাড়ির পথে নামেন হাজারো মানুষ। মুহূর্তেই যাত্রীতে ভরে যায় বাসস্ট্যান্ডগুলো।

যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন কম থাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয় উপচে পড়া ভিড়। থেমে থেমে বৃষ্টি সেই ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে হঠাৎ করেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটাতে অনেক চাকরিজীবী রাজধানী ছাড়েন।

একই সময়ে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকও বাড়ির পথে রওনা হন।

এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় বাসস্ট্যান্ডগুলোতে সৃষ্টি হয় উপচে পড়া ভিড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকে সাভার, হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, নবীনগর, মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়া ও আরিচামুখী বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। বাস এলেই মুহূর্তের মধ্যে আসন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বাসে দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। অনেককে একাধিক বাস ছেড়ে পরবর্তী বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর, সিংগাইর ও সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও। বাস, ম্যাক্সি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাকিব হাসান বলেন, ‘বুধবার সরকারি ছুটি। বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছি। সাথে শুক্রবার ও শনিবার—এই চারদিন ছুটি। কিন্তু দুপুর থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে এত ভিড় যে বাসে উঠতেই দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার কর্মী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘কারখানায় দুই দিনের ছুটি হয়েছে। তাই আজই নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে দুই বাচ্চা নিয়ে বাসে উঠতে হয়েছে। সিট না পেয়ে সারা রাস্তা দাঁড়িয়ে আসছি।’

পদ্মা পরিবহনের বাসচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রিপেই বাস কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।’

সেলফি বাসের সুপারভাইজার সোহেল রানা বলেন, ‘সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন কারখানার ছুটির কারণে একসঙ্গে অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। যাত্রীর তুলনায় বাস কম থাকায় সব কাউন্টারেই চাপ বেড়েছে।’

মানিকগঞ্জ-বানিয়াজুরী অভ্যন্তরীণ রুটের ম্যাক্সিচালক লুৎফর রহমান বলেন, ‘স্বাভাবিক দিনের তুলনায় আজ যাত্রী অনেক বেশি। পাঁচ মিনিটেই গাড়ি ভর্তি থাকছে। অনেক যাত্রীকে পরবর্তী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত অবকাশ এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার একযোগে ছুটি ঘোষণার কারণে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। আগামীকালও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।