কুয়াকাটায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে : মোশাররফ হোসেন

কুয়াকাটার ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন।

মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
কুয়াকাটায় নির্বাচনী জনসভায় এ বি এম মোশাররফ হোসেন
কুয়াকাটায় নির্বাচনী জনসভায় এ বি এম মোশাররফ হোসেন |নয়া দিগন্ত

কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী ও মহিপুর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাখাইন নারী মার্কেট মাঠে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার কারণেই মানুষ সবসময় বিএনপির পাশে থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে। কুয়াকাটার ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন।’

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করা হবে। যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি স্কুল ও কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এর ফলে একদিকে যুবসমাজ সুস্থ ধারায় ফিরবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে মূলত দু’টি বড় রাজনৈতিক দল ছিল, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে থাকলে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর ও কুয়াকাটার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।’

তিনি এসব এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

অতীতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কলাপাড়া সফরের সময় এলাকাবাসীর উত্থাপিত অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর ও কুয়াকাটাকে ঘিরে একটি উন্নয়ন রোল মডেল গড়ে তোলা হবে।’

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো: মনিরুজ্জামান, মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভুইয়া, মহিপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন মুসুল্লী সুলতান, কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো: ফারুকসহ অন্য নেতারা।

সভায় কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর ও কুয়াকাটা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও হাজার হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। জনসভা সঞ্চালনা করেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: মতিউর রহমান হাওলাদার।