ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিপ্রা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ৪ বছর পর গ্রেফতার

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা এ তথ্য জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার শিপ্রা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম কাজল
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার শিপ্রা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম কাজল |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরের আলোচিত শিপ্রা রানী হত্যা মামলার রহস্য চার বছর পর উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম কাজলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা এ তথ্য জানান।

এর আগে রোববার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার সকালে তাকে পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে আনা হয়।

গ্রেফতার তাজুল ইসলাম কাজল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর গ্রামের মরহুম ফুল মিয়ার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, পরকীয়া সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের জেরে শিপ্রা রানী দাসকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে আড়াল করতে নাম পরিবর্তন করে লালন মিয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন নোয়াখালী জেলায় বসবাস করে আসছিলেন এবং সেখানে মাটি কাটার কাজ করতেন।

তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের সবিনয় দাসের স্ত্রী শিপ্রা রানী দাস নরসিংদীতে এক বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই তাজুল ইসলাম কাজলের সাথে তার পরিচয় হয় এবং সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তে উঠে এসেছে, এক পর্যায়ে শিপ্রা তাদের সম্পর্ক ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাজুল ইসলাম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

২০২১ সালের ১ অক্টোবর অভিযুক্ত কাজল কাজের কথা বলে শিপ্রাকে নরসিংদীর মির্জারচর থেকে নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চরলাপাং এলাকায় নিয়ে যান। পরে নবীপুর চর এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করেন।

ঘটনার তিন দিন পর, ৪ অক্টোবর নবীনগর থানা পুলিশ শিপ্রার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্তের পর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি শিপ্রার স্বামী নবীনগর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে ক্লুলেস থাকায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন কালু বাবুর্চিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোতে থাকে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নোয়াখালী থেকে মূল অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম কাজলকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার বরাতে পিবিআই জানায়, অভিযুক্ত কাজল ইতোমধ্যে ১৬১ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।