দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চর কচুয়াখালীর ৪১০ শিশু পেয়েছে হাম-রুবেলার টিকা।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারাদেশের মতো ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর আওতায় উপজেলার ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় শিশুদের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১০ জন এবং অর্জনও হয়েছে ৪১০ জন। এ সময় ছয়-নয় মাস বয়সী ৪২ জন, নয় থেকে ১২ মাস বয়সী ৩৯ জন, এক বছর বয়সী ৫২ জন, দুই বছর বয়সী ৭০ জন, তিন বছর বয়সী ৫৬ জন, চার বছর বয়সী ৮৭ জন ও পাঁচ বছর বয়সী ৬৪ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়ে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অতিক্রম করে ট্রলারযোগে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর কচুয়াখালীতে সকালে পৌঁছে। এরপর চারটি ব্লকে ভাগ হয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পূর্ণ করেন।
এ সময় চর কচুয়াখালীর বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক মো: লোকমান হোসেনের সহযোগিতায় স্থানীয় মো: আক্তার হোসেন, মো: মোতাহার ও আমির হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু রয়েছে। যারা বিগত সরকারের আমলে ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। এ চরে একটিও কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। বর্তমান সরকারের মাননীয় স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
তারা আরো জানান, সামান্য ডায়রিয়া হলেও শিশুদের নিয়ে ট্রলার ভাড়া করে যেতে হয় উপজেলা সদর হাসপাতালে।
পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মনির হোসেন জানান, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে চর কচুয়াখালীর শিশু-কিশোর ও বাসিন্দারা পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ওই চরে ৪১০ জন শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। ওখানে যদি একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকত তাহলে চরের বাসিন্দারা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পেতো।
তারা আরো বলেন, আমরা শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চরের শিশুদের হামের টিকা দিয়েছি। এতে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেল। আশা করছি চরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা চলমান রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাদ্দসহ সকল কিছুর উদ্যোগ নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএস) ডা: মো: আবু মাহমুদ তালহা বলেন, চর কচুয়াখালীতে ৪১০ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। আশা করছি টিকা নেয়া সকল শিশুরাই সুস্থ ও নিরাপদে থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে চরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা চলমান থাকবে।



