পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানুষ বিনিয়োগ করবে না, বিনিয়োগ ও উৎপাদন না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে জেলার দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্রতিবছর ২২ থেকে ২৪ লাখ লোক কর্মবাজারে আসে। কৃষিতে টেকনোলজি ব্যবহারের কারণে সেখান থেকে শ্রমিকরা পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় আসছে।’
তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে চাইলে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সবাই সমন্বিতভাবে চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। এ ব্যাপারে পুলিশকে আরো কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ১৮ বছরের বেশি সময় পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যারা জনগণ থেকে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যায়, জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা থাকে।
তিনি বলেন, অতীতে চাঁদাবাজির জন্য অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়নি। একই কারণে তার প্রতিষ্ঠিত দাগনভূঁইয়ার দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি, উপজেলার সব দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় করে দাগনভূঞা উপজেলাকে একটি উন্নত ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকা দাগনভূঞা ও সোনাগাজীবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিরামহীন কাজ করবেন বলে সভায় ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোযোগ দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবার সহযোগিতা নিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অনিয়ম, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।
এর আগে, তিনি উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান স্থাপনের জায়গা পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো: মাছুম বিল্লাহ, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো: ফুয়াদ হাসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আতাতুর্ক সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আল আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক ও গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, উপজেলা জামাতের আমির গাজী সালেহ উদ্দিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার ও সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত অংশ নেন।



