কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি রঙিন সামুদ্রিক মাছ। ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’ নামে পরিচিত মাছটি এর হলুদ, নীল ও কালো ডোরাকাটা বর্ণিল দেহের কারণে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় অনেকেই একে ‘সুন্দরী মাছ’ নামে চেনেন।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে মাছটি আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে আনা হলে তা দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এর আগে শনিবার গভীর রাতে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছধরা ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের মাছটি ধরা পড়ে।
ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম জানান, অন্যান্য মাছের সাথে হঠাৎ করেই অচেনা রঙিন মাছটি জালে উঠে আসে। আগে কখনো এমন মাছ দেখেননি বলে জানান তিনি। এর ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য দেখে সেটিকে আলাদা করে সংরক্ষণ করে তীরে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও জেলে মো. হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে মাছ ধরলেও এমন আকর্ষণীয় রঙের মাছ খুব কমই দেখা যায়। খবর পেয়ে তারা মাছটি দেখতে আড়তে ছুটে আসেন।
সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে খুবই বিরল। বাণিজ্যিকভাবে এর তেমন বাজার না থাকলেও ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, Acanthurus lineatus বৈজ্ঞানিক নামের এই মাছটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’, ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ কিংবা ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামে পরিচিত। এটি মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বসবাস করে এবং সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মাছটির লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো কাঁটা থাকে, যা আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। অসাবধানতাবশত ওই কাঁটার আঘাতে মানুষের শরীরে তীব্র ব্যথা হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন, সুন্দরবন উপকূল এবং বঙ্গোপসাগরের কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে এ মাছের দেখা মিললেও জেলেদের জালে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই বিরল।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক পরিবেশে এ মাছের বিচরণ থাকলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এটি খুব কম ধরা পড়ে। তাই মাছটি ধরার সময় বিশেষ করে এর ধারালো লেজের কাঁটার বিষয়ে জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।



