সাঘাটায় পানির ট্যাংকিতে অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে লুট

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় ১৭ বছর বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরে কষ্ট করে ধানের ব্যবসা শুরু করেছি। জীবনের সব সঞ্চয় ঘরে রেখেছিলাম। এভাবে সব হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
সাঘাটায় পানির ট্যাংকিতে অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে লুট
সাঘাটায় পানির ট্যাংকিতে অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে লুট |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নে পানির ট্যাংকিতে অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কলেজ মোড় এলাকার মৃত আমজাদ হোসেন সরদারের ছেলে মো: রফিকুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কলেজ মোড় এলাকার মরহুম আমজাদ হোসেন সরদারের ছেলে মো: রফিকুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রফিকুল ইসলাম ধানের ঘরে কাজ করার সময় অসুস্থ বোধ করেন। বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিতে গেলে দেখতে পান পরিবারের অন্য সদস্যরাও অস্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বাড়ির পানির সেফটি ট্যাংকিতে অচেতনকারী কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেয়। ওই পানি পান করার পর পরিবারের সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও আনুমানিক সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় ১৭ বছর বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরে কষ্ট করে ধানের ব্যবসা শুরু করেছি। জীবনের সব সঞ্চয় ঘরে রেখেছিলাম। এভাবে সব হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন বলেন, ‘আমার জীবনে এমন ঘটনা কখনো দেখিনি। পানির ট্যাংকিতে অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে পুরো পরিবারকে অচেতন করে লুটপাটের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলাকে সচেতন থাকতে হবে।’

বোনারপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুল কাইয়ুম জানান, অভিযোগটি এসআই সাজিদুলের কাছে দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।