ঝিনাইদহে জামানত হারালেন ১২ প্রার্থী

ঝিনাইদহ-১ আসনে তিনজন, ঝিনাইদহ-২ আসনে চারজন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে দু’জন এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে তিনজন জামানত হারিয়েছেন।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

Location :

Jhenaidah
ঝিনাইদহের ম্যাপ
ঝিনাইদহের ম্যাপ |ফাইল ছবি

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে ১২ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। এসব আসনে মোট ২১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছিল।

জেলা রিটার্নিং কর্মকতার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে ১২ প্রার্থী আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে তিনজন জামানত ফেরত পাবেন না। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৩৭ হাজার ২১২। সে হিসেবে একজন প্রার্থীকে জামানত ফেরত পেতে হলে ২৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেতে হবে। কিন্তু প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এবি পার্টি মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৬১০ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের শহিদুল এনাম পল্লব পেয়েছেন ৩০৯ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মনিকা আলম পেয়েছেন ৯৬৯ ভোট। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মো: আসাদুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের এ এস এম মতিউর রহমান।

ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনে চারজন জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৫। প্রদত্ত ভোটের হিসেবে জামানত রক্ষা করতে হলে একজন প্রার্থীকে ৪৮ হাজার ৮৩ ভোট পেতে হবে। সেখানে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আসসাদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৪০ ভোট, সিপিবির আবু তোয়াব ৫৫৭ ভোট পেয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মমতাজুর রহমান চার হাজার ৫৭১ ভোট পেয়েছেন এবং জাতীয় পার্টির সওগাতুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৯৪ ভোট। এখানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো: আব্দুল মজিদ।

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে জামানত হারিয়েছেন দু’জন। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ ভোট। প্রদত্ত ভোটের হিসেবে জামানত ফেরত পেতে হলে একজন প্রার্থীকে ৪১ হাজার ৯৩৭ ভোট পেতে হবে। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন তিন হাজার ৮২০ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের সুমন কবির পেয়েছেন ৩৮৮ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মতিয়ার রহমান জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মেহেদী হাসান রনি।

এছাড়া ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনে জামানত হারিয়েছেন তিনজন। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৩২ ভোট। সে হিসেবে একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে হলে ৩০ হাজার ৯৯১ ভোট পেতে হবে। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল জলিল পেয়েছেন তিন হাজার ৯০৭ ভোট, গণফোরামের খনিয়া খানম পেয়েছেন ২৬৭ ভোট এবং জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু পেয়েছেন ৬১৩ ভোট। এ আসনে জামায়াতের আবু তালিব বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির রাশেদ খাঁন।