লোডশেডিং ও তেল সঙ্কটে জনজীবন বিপর্যস্ত

টানা তিনদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়

গত ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার) চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের সাথে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং কৃষকদের তেলের সঙ্কট; ফলে জনজীবন এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। টানা তিনদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
চুয়াডাঙ্গায় টানা তিনদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় টানা তিনদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা |নয়া দিগন্ত

গত ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার) চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের সাথে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং কৃষকদের তেলের সঙ্কট; ফলে জনজীবন এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। টানা তিনদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

একদিকে প্রচণ্ড রোদ আর অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি আর সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা এখন যেন এক নীরব দুর্যোগের জনপদে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৪ এপ্রিল (শনিবার) তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অব্যাহত। এই টানা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, যা খুব দ্রুত তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করছে তখন গরমের সাথে লোডশেডিং ও তেল সঙ্কট; ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং যেন মানুষের দুর্ভোগকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ফ্যান চলে না, পানির পাম্প বন্ধ একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার মতো অবস্থা। তার ওপর যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের সঙ্কট।

পেট্রোলপাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে চালক ও কৃষকদের। তীব্র রোদে মাথার ওপর আগুন ঝরছে, আর নিচে পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা এর মধ্যেই সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী একজনের ভাষায়, ‘গরমে দাঁড়ায় থাকি, তেল পাই না ঠিকমতো এটা যেন রোদে ভাজা হওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা।’

এই তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক পরিবহন চালক, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কাজের সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে আয় কমে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

কৃষকেরা বলছেন, ধান মৌসুমে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার বৈশিষ্ট্যই যেন এমন শীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, গ্রীষ্মে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতিবছরই এই জেলার মানুষ প্রকৃতির দুই চরম রূপের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকে।

নীরব দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে তাপদাহ বৃষ্টি না থাকা, খোলা আকাশ, পিচঢালা সড়ক নরম হয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গার পরিস্থিতি এখন এক নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সবশেষে বলা যায়, গরম, লোডশেডিং আর তেল সঙ্কট এই ত্রিমুখী চাপে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন এখন একেবারেই দুঃসহ হয়ে উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে। আকাশে মেঘ না থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি পড়ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।