জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় কর্মসংস্থানের ঘাটতি চিহ্নিত করতে বড় পরিসরে গবেষণা শুরু

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালনাকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিবছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় কর্মসংস্থানের ঘাটতি চিহ্নিত করতে গবেষণা শুরু
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় কর্মসংস্থানের ঘাটতি চিহ্নিত করতে গবেষণা শুরু |নয়া দিগন্ত

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালনাকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিবছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী। তবে তাদের একটি বড় অংশ প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে না পারায় ক্রমেই বেকারত্বের হার বাড়ছে। এই সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বড় পরিসরে একটি গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে

‘ফেসিবিলিটি স্ট্যাডি টু আকসেস দ্য ফিউচার রিডনেস অ্যান্ড রেসপন্সিভনেস অব বাংলাদেশী’স হাইয়ার ইডুকেশন সিস্টেম’ শীর্ষক এ সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গবেষণার দায়িত্ব পেয়েছে খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনসিগলিয়ারি প্রাইভেট লিমিটেড।

রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব অঞ্চল, শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রভুক্ত মানুষের সমস্যা ও চাহিদা জানতে চায়। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন উদ্যোগ গ্রহণই লক্ষ্য, যাতে কেউ শিক্ষার মূলধারা থেকে বাদ না পড়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের আপামর জনসাধারণের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গবেষণা কার্যক্রম আন্তরিকতা ও সুচারুভাবে পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানের হওয়া প্রয়োজন, যাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের নীতিনির্ধারকরাও উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করতে পারেন।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) প্রফেসর ড. মো: নূরুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো: আশেক কবির চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সকল ডিন, বিভিন্ন দফতরের পরিচালক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনসিগলিয়েরি প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।