গৌরীপুরে হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা

সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল মাসে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Gauripur
ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি
ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও সীমান্তবর্তী পূর্বধলা উপ‌জেলার শ্যামগঞ্জ এলাকায় হঠাৎ ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চৈত্র মাসের শুরুতেই এমন আকস্মিক দুর্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রা‌ত ১০টার দি‌কে প্রবল দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই শিলাবৃষ্টি শুরু হলে পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ ও গৌরীপুর পৌরসভা এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী এই শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুল ঝরে পড়া এবং বোরো ধানের ক্ষেত হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে বড় আকারের শিলা পড়ায় আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের মুকুল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় বোরো ধানের ক্ষেতও নুয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের মাঝে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গৌরীপুর পৌর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিকেলের দিকে আচমকা আকাশ কালো হয়ে গেলে প্রবল ঝড় শুরু হয়। এর সাথে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, চৈত্র মাসের শুরুতেই এমন শিলাবৃষ্টি হলে আম, বোরো ধান ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় তারা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানায়, সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল মাসে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।